বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোলের সাদীপুর গ্রামের গৃহবধূ ও আলোচিত টিকটকার ইয়াসমিন আক্তার মাহী (২৭) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) মধ্যরাতে যশোর শহরের ধর্মতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় তাকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। বর্তমান তার মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ইয়াসমিন আক্তার মাহী বেনাপোল পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের সাদীপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম (টাইগার)-এর কন্যা। এবং একই গ্রামে জুয়েলের স্ত্রী বলে জানা গেছে। তবে তার স্বামী জুয়েলের সাথে বনিবনা না হওয়ায় ছাড়া ছাড়ি হয় এবং সেখানে তার ৭ বছরের একটি পুত্র সন্তান ও আছে।
স্থানীয়দের তথ্য মতে, মাহী ২০২৪ সালে দুবাই চলে যায় কাজের সন্ধানে। সেখানে ৩ মাস মত অতিবাহিত করে আবারও দেশে ফিরে আসে। সেখান থেকে সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিলেন বেশ সক্রিয়। ফেসবুক ও টিকটকে তার ছিল উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা। তার মৃত্যুর আগে আপলোড করা সর্বশেষ টিকটক ভিডিওটি এখন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরের ছাদে থাকা ফ্যানের সঙ্গে ওড়না ঝুলছে। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “ভালোবাসা বলতে কিছুই হয় না বার্থ”। তার প্রতিবেশীরা জানায় তার সাথে একটি ছেলের সম্পর্ক আছে এবং সেই ছেলে তাকে বিয়ে করে। কয়েকমাস যাবৎ যশোরের একটি ভাড়া বাসিতে বসবাস করছিলো। কিন্তু ছেলের পরিবার জানাজানি হওয়ার পর এই বিয়ে মেনে না নিয়ে ছেলেকে অন্যত্র বিবাহ দিয়ে দেই। এ কারণেই মাহী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গুঞ্জন রয়েছে তাকে হত্যাও করা হতে পারে। কারণ যে ছেলের সাথে তার সম্পর্ক ও বিবাহ করেছে তারা প্রভাবশালী।
স্থানীয় সূত্র এবং পরিচিতদের ভাষ্যমতে, রাতে তার কক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সকালে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। কোতোয়ালি থানার একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। একটি সূত্র জানিয়েছে মাহীর সঙ্গে এক তরুণের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সেই সম্পর্ক পরিবার মেনে নেয়নি। এমনকি কিছুদিন আগে মাহীর অন্যত্র বিয়েও হয়ে যায় । যদিও এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। মাহীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি এবং সরাসরি মন্তব্য দিতেও রাজি হননি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে । ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

