যশোর:
বেনাপোলে বন্দরে আবারো আমদানিকৃত পণ্যে মিললো নিষিদ্ধ ঘোষিত ফেনসিডিল ও যৌন উত্তেজক বড়িসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ।
রোববার সকালে ভারতীয় একটি পণ্যবাহি ট্রাক (যার নম্বর-নং ডাব্লিউ-বি ৪১-ই-০৯১৮) বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের পর ওই ট্রাক থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত এসব মাদক ও যৌন উত্তেজক বড়ি উদ্ধার করা হয় বলে বেনাপোল শুল্কভবনের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল রশীদ মিয়া জানান।
এই কাস্টমস কর্মকর্তা বলেন,’আমদানি পণ্যবাহি একটি ভারতীয় ট্রাকে বৈধ পণ্যের সাথে অবৈধ পণ্য আনা হচ্ছে’ গোপন এমন সংবাদে পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে বেনাপোল বন্দরে ঢোকার পর ট্রাকটি আটক করা হয়। পরে ট্রাকটি শুল্কভবনে এনে তল্লাশি করা হয়।
“শুল্কভবনে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতে ট্রাকের ত্রিপল খুলে আমদানিকৃত মালের সাথে ৬শ বোতল নিষিদ্ধ ঘোষিত ফেনসিডিল এবং বিভিন্ন ধরনের ২২ হাজার ৫১৮ পিস নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক বড়ি পাওয়া পায়।”
কাস্টমস সুত্র জানায়,ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট লাইফ ফুটওয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ’ ৮৪০ ব্যাগ মাইক্রোসেল পিটি নামে একটি পণ্য আমদানি করেন। যার আমদানি মুল্য ৩৭ হাজার মার্কিন ডলার।বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।পণ্যচালানটির রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হল ভারতের রাজস্থানের ‘এসএস ব্লুকেম ইন্ডাস্ট্রি’।বেনাপোলের সুজুতি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি সিএন্ডএফ এজেন্ট আমদানিকারকের প্রতিনিধি হিসেবে পণ্যচালানটি গ্রহন করেন।
আব্দুল রশীদ মিয়া জানান,দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র আমদানি পণ্যবাহী ট্রাকে চোরাচালানের মালামাল নিয়ে আসছে।গত ৩ মাসে এধরনের বেশকটি চালান আটক করা হয়েছে।ভারতীয় ট্রাকের চালক, আমদানিকারক এবং সিএন্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে থানায় ফৌজদারি মামলা রুজু করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ১৫ জুন রাতে বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় পণ্যবাহী একটি ট্রাক থেকে আমদানি নিষিদ্ধ ৭৪৯ বোতল ফেনসিডিল,১৮৬ কেজি গাঁজা, বিপুল পরিমাণ বাজি,ওষুধ ও প্রসাধনী সামগ্রী উদ্ধার করে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দর ব্যবহারকারিরা জানান,বন্দরে সিসি ক্যামেরা আর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারী এড়িয়ে বৈধ পণ্যের সাথে ভারতীয় ট্রাকে প্রায়ই মাদকের বড় বড় চালান আসছে।সরাসরি ভারতীয় ট্রাক চালকরা অবৈধ অর্থ কামানোর জন্য এ কাজে জড়িত হয়ে পড়েছে। আর ঘটনার সাথে এপার-ওপারের রাঘববোয়ালরা বরাবর থাকছে ধরা ছোয়ার বাইরে। এ কারণে কোন ভাবে মাদক প্রবেশ বন্ধ হচ্ছে না। #

