শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বেনাপোলে মিজানুর হত্যার ছয় দিনেও রহস্য উন্মোচন হয়নি

আরো খবর

শেখ সেলিম, বেনাপোল প্রতিনিধি:
বেনাপোলের গরু ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের হত্যা রহস্যের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও হত্যাকারী বা হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটিত হয়নি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার রাতে তার বাড়িতে কেউ অপরিচিত প্রবেশ করেনি।

তবু গভীর রাতে তার মৃত্যু কিভাবে ঘটেছে তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। কিছু মহল ধারণা করছেন, মিজানের স্ত্রী এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। পুলিশ জানিয়েছে, পোষ্ট মর্টেম রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানা সম্ভব নয়।

 

 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিজানের বাড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন ছিল। হত্যার রাতে সেখানে অন্য কেউ প্রবেশ করেনি। গভীর রাতে অজানা সময়ে তাকে হত্যা করা হয়, যা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। স্থানীয়দের ধারণা, তাকে হত্যার আগে হয়তো চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করা হয়েছিল।

 

 

মিজানের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন জানিয়েছেন, রাত ১১টার দিকে মিজান বাড়ি প্রবেশ করে গেট ও ঘরের তালা লাগিয়েছিল। খাওয়া দাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েছিল। ভ্যান ওয়ালারের ডাক শুনে বাইরে গিয়ে তিনি দেখতে পান মিজান গেট থেকে তিন গজ দূরে পড়ে আছে। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার করলে লোকজন এসে সাহায্য করে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ঘটনার পেছনে কারো টাকা পাওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে পারে। ঘটনার দিন একজন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে এসে ৮০ হাজার টাকা চেয়েছিল। মিজান তাকে শনিবার টাকা দেবার কথা জানিয়েছিল।

 

 

মিজানের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে ফাতেমা বেগম বলেন, “আমাদের সংসারে কোনো ঝামেলা নেই, বাবার কারো সঙ্গে শত্রুতা নেই। বাবাকে কে হত্যা করেছে তা আমরা জানতে চাই এবং বিচার চাই।”

 

 

স্থানীয় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঘটনার পরে বেনাপোল পোর্ট থানার উপ-পরিদর্শকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় মিজানের ছেলে মুরসালিন জানিয়েছেন, রাত ১২টা পর্যন্ত তিনি বন্ধুদের সঙ্গে মোবাইলে গেম খেলেছেন।

 

 

বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই রাশেদ আলি জানান, মিজানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পোষ্ট মর্টেম রিপোর্টের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই তদন্তের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ