শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বেনাপোলে সেই রাজস্ব কর্মকর্তাসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা, কারাগারে প্রেরণ

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সেই রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার ও তার সহযোগী হাসিব উদ্দীনের বিরুদ্ধে দূর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার সহকারী পরিচালক আল আমীন বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। মামলার দুই আসামিকে আটক দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সিনিয়র স্পেশাল জেলা জজ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক সালেহুজ্জামান ওই দু’জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আটক শামীমা যশোর শহরের নাজির শংকরপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে ও হাসিবুর রহমান বেনাপোলের নাজুল হোসেনের ছেলে।

গত সোমবার রাতে কাস্টমস হাউজে অভিযানে হাসিবুর রহমানকে টাকাসহ আটক করে দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সদস্যরা। আজ প্রাথমিক তদন্ত শেষে করলে দুপুরে রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারকেও গ্রেফতার করে। পরে ঘুষ গ্রহণের মামলায় বিকেলে

 

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টম হাউসের কিছু কর্মকর্তা আমদানি পণ্যে সঠিকভাবে শুল্কায়ন না করে, ঘুষ নিয়ে আমদানি পণ্যে শুল্কায়ন করছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল বেনাপোল কাস্টম হাউসে অভিযান চালায়। দুদক কর্মকর্তারা বিকেল চারটার দিকে বেনাপোল কাস্টম হাউসের প্রধান ফটক থেকে হাসিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনক ভাবে আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা পাওয়া যায়।

 

জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর রহমান ওই টাকা বেনাপোল কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারের ঘুষের বলে জানান। তাকে নিয়ে কাস্টম হাউসের চতুর্থ তলায় শামীমা আক্তারের কক্ষে যান দুদক কর্মকর্তারা। শামীমা আক্তারকে ওই টাকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি দুদকে জানান, হাসিবুর রহমানের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ হয় এবং হাসিবুর রহমানকে ওই টাকা তার দপ্তরে আনতে বলেছেন। পরবর্তীতে টিম কর্তৃক হাসিবুর রহমানের কাছ থেকে উদ্ধার করা ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করে।

 

এ ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওায়ায় ওই দুইজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। মঙ্গলবার রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারকে আটক করে দুদক।

এদিকে,সোমবার বেনাপোল কাস্টম হাউসে অভিযানে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা। এ সময় তাদের গাড়িটি প্রায় ৩০ মিনিট আটকে রাখা হয়।

সোমবার রাতে বেনাপোল কাস্টম হাউস চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, জব্দ করা টাকার নম্বর মিলিয়ে তালিকাবদ্ধ করতে রাত সাড়ে আটটা বেজে যায়। এ সময় দুদক কর্মকর্তারা রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারের কাছ মুচলেকা নিয়ে তাকে কাস্টমস কমিশনারের জিম্মায় রেখে বেরিয়ে কাস্টম হাউসের প্রধান ফটকের সামনে রাখা গাড়িতে তারা ওঠেন।

এ সময়  শতাধিক লোক গাড়িটি আটকে রাখেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন কর্মকর্তারা।

খবর পেয়ে প্রায় ৩০ মিনিট পর রাত সোয়া নয়টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ কাস্টম হাউসে গিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে। এরপর পুলিশি প্রহরায় গাড়িটি যশোরের উদ্দেশ্যে বেনাপোল কাস্টম হাউস ছেড়ে যায়।

এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কাস্টমস কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের ব্রিফিং করছেন দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল-আমীন। ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিকেরা তাকে ঘিরে ‘দুর্নীতিবাজ’ ও ‘ঘুষখোর’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় তাকে বিমর্ষ অবস্থায় দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে যেতে দেখা যায়। অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বেনাপোল কাস্টম হাউসের মূল ফটকের সামনে দুদকের গাড়িটি আটকে রাখা হয়েছে। গাড়ির মধ্যে বসে আছেন দুদকের কর্মকর্তারা। অবরোধকারীরা গাড়িটির চারপাশে অবস্থান করছেন। এ সময় দুদক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দীন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারের সহযোগী হাসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে টাকার উৎস যাচাই বাছাই শেষে আজ সহকারী পরিচালক আল আমীন মামলা করলে আসামী রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারকেও মঙ্গলবার যশোর শহর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জব্দ করা টাকা আদালতের অনুমতি নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ