ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল–খুলনা–মোংলা রুটে চলাচলকারী বেনাপোল কমিউটার (৫৩ বেতনা) ট্রেনটি সরকারি ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রথম দিনেই টিকিট বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রী উপস্থিতি ও টিকিট বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় টিকিট বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে স্টেশন ও কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে।
ফুলের রাজ্য হিসেবে পরিচিত গদখালি এলাকার প্রবেশদ্বার ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে থাকেন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্রথম দিনেই এখানকার যাত্রী সমাগম ও টিকিট বিক্রিতে তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে।
স্টেশন সূত্র জানায়, খুলনা থেকে ফিরে ঝিকরগাছা স্টেশনে নামা যাত্রীদের টিকিট বিক্রির হার অন্যান্য দিনের তুলনায় বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোলগামী ট্রেনের ঝিকরগাছা থেকে বেনাপোলগামী যাত্রীদের জন্য যেখানে প্রতিদিন মাত্র ৩ থেকে ৪টি টিকিট বিক্রি হতো, সেখানে রোববার বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪০টি টিকিট। ফলে টিকিট কালেকশনেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই সঙ্গে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা মোংলাগামী ট্রেনের ঝিকরগাছা থেকে মোংলাগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও টিকিট বিক্রি বেড়েছে। কাউন্টার সূত্র জানায়, সাধারণ দিনে যেখানে গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি টিকিট বিক্রি হতো, সেখানে রোববার বিক্রি হয়েছে ১০০টিরও বেশি টিকিট।
রোববার থেকে ট্রেনটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও টিকিট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন। তবে যাত্রীদের স্বস্তির বিষয় হলো—ট্রেনের ভাড়া পূর্বনির্ধারিত হারেই বহাল রাখা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, লাভজনক এই রুটটিকে বেসরকারি টিকিট ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৯ মে দরপত্র খোলা হয় এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে যাচাই-বাছাই শেষে বিষয়টি রেলওয়ের মূল্যায়ন কমিটিতে পাঠানো হয়। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে তিন বছরের জন্য এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশনকে টিকিট ব্যবস্থাপনার কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর বেনাপোল–খুলনা–মোংলা রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ২০১০ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত এটি সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাত্রীসেবার মান অবনতি, চোরাচালান ও দখলদারিত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১৩ সালে পুনরায় ট্রেনটি সরকারি তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্রথম দিনেই ট্রেন ও স্টেশনের প্রতিটি প্রবেশ ও বহির্গমন গেটে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। টিকিট যাচাই ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা দায়িত্ব পালন করায় স্টেশনে বাড়তি তদারকি নিশ্চিত হয়েছে।
ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নিগার সুলতানা বলেন,
“রোববার থেকে এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন ট্রেনটির টিকিট ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে নিয়মিতভাবে তাদের কার্যক্রম তদারকি করবে।”

