শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বেনাপোল কাস্টমস: শুল্কায়ন ( গ্রুপ-৫) শাখায় চলছে নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনা

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি: বেনাপোল কাস্টমসের শুল্কায়ন (গ্রুপ-৫) শাখায় চলছে নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনা। অতি গুরুত্বপুর্ণ এই শাখায় আমদানি পণ্যের ফাইল ছাড়াতে গেলে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা। এই শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ আজাদ ও এআরও ওমর ফারুক এসব অপকর্মে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা অবৈধ আর্থিক লেন-দেনে সুজন নামে একজন বহিরাগতকে ব্যবহার করেন বলে সুত্রে প্রকাশ।

বেনাপোলের একাধিক সিঅ্যান্ডএফ কর্মরত কর্মচারীদের মাধ্যমে জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টমস হাউসের শুল্কায়ন গ্রুপ-৫ মূলত ম্যাশিনারি ও পার্টস মালামাল পণ্য খালাসের দ্বায়িত্বে নিয়োজিত গ্রুপ। আমদানি গ্রুপ ৫-এ শিল্প কারখানার বড় বড় মেশিন ও মটরসাইকেল,ট্রাক,ট্রাক্টর পার্টস শুল্কায়নের দায়িত্বে রত গ্রুপে ফাইল সাবমিট করলেই পণ্যের ওজন (এইস এস কোড), এসআরও, টিআর, প্যাকিং লিস্ট ঠিক নেই বলে অর্থ বানিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে কাস্টমস হাউসের ৫নং শুল্কায়ন গ্রুপে গিয়ে দেখা যায় এনজিও কর্মী সুজন কয়েকটি ফাইল নিয়ে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের সাথে দরকষাকষি করছে। এসময় দুই একজনকেও গোপনে টাকা দিতে দেখা যায়। তাছাড়া হিসাব রাখার জন্য কোন সিঅ্যান্ডএফের কয়টি ফাইল শুল্কায়ন করা হলো সাদা কাগজে ক্রমিক দিয়ে লিখে রাখছেন রাজস্ব কর্মকর্তা আজাদ।

রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ আজাদ সম্পর্কে কয়েকজন সিঅ্যন্ডএফ কর্মচারী জানান, আমরা এই রাজস্ব কর্মকর্তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। হাতে গোনা কয়েকজনকে শুভংকরের ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন তিনি। আর অনান্য সাধারণ ব্যাবসায়ীদেরকে বিনা কারণে শুল্কায়ন ফাইল আটকে রেখে কৌশলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে পণ্য ছাড় করাতে ঘুষ দেওয়া ছাড়া উপায় থাকছে না। আমদানিকারকের মাল জরুরি প্রয়োজন থাকায় এইস এস কোড ও পণ্যর ডিটেইলস ,প্যাকিং লিস্ট,টি আর প্রাপ্যতায় ঝামেলায় না গিয়ে তার অবৈধ আবদার মেনে নিতে বাধ্য হয়। সিঅ্যান্ডএফ মালিকরা জানান, লাইসেন্স বাতিলের ভয়ে আমরা সব জেনেও কোন প্রতিবাদ করতে পারি না।

হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের গুরুত্বপুর্ণ শাখার রাজস্ব কর্মকর্তার অফিসে সুজন নামে যাকে দেখা যায় তিনি আসলে অফিসের কেউ নয়। বহিরাগত ওই যুবকের কাজ কি তা নিয়ে সৃস্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কেউ কেউ বলছেন তার মাধ্যমে হাত বদল হয় অবৈধ টাকা। আমাদের কাছে যে ভিডিওটি এসছে তাতে দেখা যায় রাজস্ব কর্মকর্তা ফাইল স্বাক্ষর করে তার(সুজন) হাতে দিচ্ছেন। অনেকের অভিমত তার ফোন চেক বা জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।

ঘুষ ও দুর্নীতির বিষয়ে শার্শা উপজেলা শাখার দুর্নীতি দমন কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান লিটু বলেন, বিগত সরকারের আমলে দেশে এমন কোন সেক্টর নেই যে সেখানে দুর্নীতি হয়নি। বর্তমান বেনাপোল কাস্টমসেও দুর্নীতি চরম আকার ধারন করেছে। মূলত কাস্টমসে ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হয়ে দাড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা দুদক দিয়ে খতিয়ে দেখবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী জানান, হয়রানি আর ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কথা বললে কর্মকর্তারা ফাইল ছুড়ে মারেন। এমনকি অফিসে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ নিষেধ রয়েছে। যাতে করে কেও ঘুষের ভিডিও না করতে পারে। কিছু দিন আগে রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ আজাদ শুল্কায়ন গ্রুপ-৬ এ ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে নানা অসঙ্গতির অভিযোগ উঠায় সেখান থেকে গ্রুপ ৫-এ বদলি করা হয়। শাখা পরিবর্তন হলেও তার পুর্বের স্বভাব বদলায়নি দাবি করেন তিনি।

এসব বিষয়ে রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ আজাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ