শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বেনাপোলে ঘুষের টাকাসহ আটক রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা বরখাস্ত

আরো খবর

সুমন হোসাইন: বেনাপোল কাস্টম হাউসে দুদকের হাতে ঘুসের দুই লাখ ৭৬ হাজার টাকাসহ আটক হওয়া রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

এনবিআর আদেশে জানা যায়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী সরকার তাঁকে সরকারি চাকরি হতে বরখাস্ত করা হয়েছে। আদেশে আরও বলা হয়েছে আদেশটি জনস্বার্থে জারি করা হলো।

এর আগে যশোর দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আল-আমীন বাদী হয়ে রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার ও তার সহযোগী ঘুস উত্তলোনকারী হাসিবুর রহমানের নামে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৭৪এর ৫(২)ধারায় মামলা করেন।

দুদকের তদন্ত কার্যের প্রাথমিক তথ্য বিবরনীতে বলা হয়েছে ১ নং আসামী শামীমা আক্তার নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন কোম্পানি কর্তৃক আমদানিকৃত মালামাল/পণ্য সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও দালালের সাথে পরপষ্পর যোগসাজসে শুল্কায়নে অবৈধ সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ঘুস গ্রহন করে। এবং ২ নং আসামী হাসিব উক্ত কাজে সহায়তা করে উভয়ে দন্ডবিধির ১৬১/১৬২/১৬৩/ ১৬৪/ ১৬৫ (ক)/১০৯ ধারার অপরাধ সংঘটিত করেছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকা অফিসের নির্দেশে গত ৭ অক্টোবর সকালে একটি আভিযানিক দল বেনাপোল কাস্টমসে অভিযান চালায়। আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল কাস্টমস হাউসে ঘুষ বাণিজ্য চলছে এবং মোটা অংকের টাকা লেনদেন হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কাস্টমস হাউসের গেটের সামনে থেকে ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকাসহ এনজিওকর্মী হাসিবুর রহমানকে আটক করি। টাকা কার জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ টাকা রাজস্ব কর্মকর্তা শামিমা আক্তার ম্যাডামের। পরে কাস্টমস হাউসে রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমাকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘুসের টাকা বলে স্বীকার করে। দুদক এখন যাচাই করছে এ চক্রের সঙ্গে কাস্টমস হাউসের আরও কেউ জড়িত কিনা।

গত ১২ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক যশোরের সহকারী পরিচালক আল-আমীন আটক হওয়া রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার ও তার সহযোগী হাসিব উদ্দিনের ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। যশোর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ভারপ্রাপ্ত বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জয়ন্তী রানী দাস রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

রাজস্ব কর্মকর্তা শামিমা আক্তার ও তার টাকা উত্তোলনকারী হাসিব গ্রেফতারের পর একে একে বেরীয়ে আসছে দুর্নীতিগ্রস্থ একাধিক কর্মকর্তার ঘুস বানিজ্যের ফিরিস্তি। জানা যায় দুদকের অভিযানের দিন ৬নং গ্রুপের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের সবুজ সংকেতেই সিনিয়র অফিসার শামীমা আক্তারের ঘুসের টাকা গ্রহণ করেন এনজিওকর্মী হাসিব। শুল্কায়নে ফাইল প্রতি অন থার্ড সিস্টেমে ঘুস নিতো এই কর্মকর্তারা।

এদিকে দুদকের জালে রাজস্ব কর্মকর্তা ধরা খেলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে তার প্রধান সহকারী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন। অবৈধ ঘুস আদায়ে আমদানিকারক প্রতিনিধিদের হয়রানি করা এবং চাহিদা মত রাজস্ব ফাঁকির ঘুসের টাকা পেলে সিদ্ধহস্ত ফাইলে স্বাক্ষর করত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন আর শামীমা আক্তারকে ভাগের টাকা বুঝিয়ে দিত।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়,শামীমা আকতারের সঙ্গে যৌথ ঘুস বানিজ্যে ফাইলে সাক্ষরের মাধ্যমে পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়েই অসাধু আমদানীকারকরা বন্দর হতে পণ্য খালাস নিতেন। এক বছরের অধিক সময় ধরে একই স্টেশনে অবস্থান করে অবৈধ ঘুসের টাকায় জ্ঞাত আয় বর্হিভূত নামে বেনামে অঢেল অর্থ সম্পদ ও অর্থবিত্তের মালিক বনেছেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট পরবর্তীতে বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমসের কয়েকজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তার যোগসাজসে গড়ে উঠা শুল্ক ফাঁকির সিন্ডিকেট বহাল তবিয়তে শুল্কফাঁকিতে লিপ্ত ছিল। দুদকের অভিযুক্ত বিদায়ী সাবেক কমিশনার মোঃ কামরুজ্জামানসহ কাস্টমসের দুর্নীতিবাজ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে অর্থের বিনিময়ে সখ্যতা গড়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেদারসে শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

সাবেক সহকারি কমিশনারের আনুগত রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দীনকে দিয়ে শুল্কায়ন গ্রুপ-৬ শাখায় দায়িত্বে সিঅ্যান্ডএফের সাথে পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী কনসাইনমেন্ট প্রতি লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যে করেছে এই চক্রটি। দুদকের অভিযানে আটক হওয়া ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা একটি ফাইলের অন থার্ড ঘুসের টাকা।

এবিষয়ে বেনাপোল কাস্টমসের শুল্কায়ন গ্রুপ-৬ এর রাজস্ব সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দীনের ব্যক্তিগত নাম্বারে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। বক্তব্যের বিষয় হোয়াটসঅ্যাপে লিখে দেওয়া হলে তিনি সিন করেন। তবে কোনো জবাব দেননি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ