সুমন হোসাইন: বেনাপোল স্থলবন্দরে বেসরকারি আল আরাফাত সিকিউরিটি আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহের নামে অর্থ ও ঘুস বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশের পর সিকিউরিটি ইনচার্জ আল আমিন শিকদারকে চাকুরচ্যুত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক মোঃ শামীম হোসেন।
গত ১০ অক্টোবর একাধিক পত্রিকা ও অনলাইনে “বেনাপোল বন্দরে আল আরাফাত সিকিউরিটির বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ” শিরনামে খবর প্রকাশিত হয়। বিষয়টি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে বন্দরের পরিচালক ৩ সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল বন্দর নিরাপত্তায় বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল আরাফাত সিকিউরিটির কর্মরত ১৪৩ জন গার্ডদের নিকট হতে বিভিন্ন অজুহাতে ইনচার্জ আল আমিন শিকদার চাকরি দিয়ে মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্যে করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগিদের জিজ্ঞাসাবাদে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি অনিয়মের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বেসরকারি আল আরাফাত সিকিউরিটি ইনচার্জ আলামিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে জানা যায়,বেসরকারি আল আরাফাত সিকিউরিটি ইনচার্জ আমিন শিকদার বেনাপোল বন্দরে নতুন আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ দায়িত্ব পাওয়ার পর আগে যে নতুন নিয়োগকৃতদের কাছ থেকে ডকুমেন্ট ছাড়াই ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে পকেটস্থ করে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বেনাপোল বন্দরের ১৭ টি গেট থেকে থেকে গাড়ি প্রবেশ ও বাহিরের ক্ষেত্রে টাকা উঠানো। বন্দরের মালামাল চুরির স্থানীয় একটি চক্রের কাছ থেকে মাসিক মাসহারা পেয়ে থাকে বলে জানা যায়।
এসব অবৈধ টাকা সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ইনচার্জ আমিন শিকদার ও তার সুপারভাইজাররা ভাগাভাগি করে থাকে। গার্ডদের কেউ ছুটি গেলো প্রতিদিন ৩০০ টাকা কেটে নেওয়া হয়। প্রতিদিন প্রায় ১০/১৫ জন ছুটিতে থাকে। তাতে মাসে ছুটির খ্যাত থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা আল আমিন শিকদার ও সুপারভাইজারদের পকেটে চলে যায়।
এদিকে আলআমিন শিকদারের চাকরিচ্যুতের খবরে স্বস্তি ফিরেছে বেনাপোল বন্দরের বেসরকারি সিকিউরিটি গার্ড শিবিরে।
এর আগে ২৯ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দরে ট্রাকচালকদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলনকারী ৬৫ জন আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার অন্যত্র বদলি করা হয়।

