শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বেনাপোল শুল্ক ষ্টেশনে কর্মবিরতি স্থগীত,আমদানি রফতানি শুরু

আরো খবর

বেনাপোল প্রতিনিধি:লাইসেন্স বিধিমালা এবং এইচএস কোড ও সিপিসি সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন সংশোধনসহ ১০ দফা দাবিতে সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের দুদিনের ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি সচল হয়েছে। চলছে পন্য লোড আনলোড। দুপুর ২টা পর্যন্ত ১৩৮ট্রাক পন্য দু দেশের মধ্যে আমদানি রফতানি হয়েছে। স্বস্তি ফিরছে বন্দরে। সোমবার সন্ধায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন সিএন্ডএফ এজেন্ট সহ আমদানি রফতানি সাথে সংশ্লিষ্টরা। এদিন ২৭টি গেটপাস হয় বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার ফেডারেশনের ডাকা কর্মবিরতি পালন করা হয়  বিভিন্ন ষ্টেশনে।সমস্যা সমাধানে ‘এনবিআর চেয়ারম্যানের আশ্বাসের’ প্রেক্ষিতে জরুরি সভায় কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।
এ সিদ্ধান্ত সদস্য সংগঠনগুলোকে ইমেইলে জানানোর পর বিকাল থেকেই বিভিন্ন বন্দরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা কাজও শুরু করেন।
বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি খাইরুজানান মধু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন   এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি জানিয়ে বলেন, “এনবিআর চেয়ারম্যান সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নেতৃবৃন্দের সাথে বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বসবেন। এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরা দুই দিনের কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত করেছি।”
বেনাপোল বন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট  অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি ও আমদানি রফতানি কারক সমিতির সভাপতি মহাসিন মিলন বলেন,
“এসব বিষয়ে সোমবার লিখিত নিশ্চয়তাপত্র পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চলমান কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে।এরপর সকলকে কাজে ফেরার কথা জানানো হয়েছে। করা হয়েছে মাইকিং। শুরু হয় কাজ।
কাস্টমস এজেন্টস লাইসেন্সিং বিধিমালা-২০২০ এর বিধি ১৫(৫) ঘ, ১৯(খ)(আ), ২৩(১)ঞও এবং ২৪(৪)-কে স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে এসব বিধি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা।
তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- শুল্ক মূল্যায়ন বিধিমালা ২০০০ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা, এইচএস কোড ও সিপিসি ভুলের কারণে জরিমানা আরোপ ও শাস্তিমূলক বিধিবিধান বাতিল করা।
গত শনিবার এনবিআরকে দেওয়া চিঠিতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা বলেছেন, বিধিমালা জারির পর এর প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য ফেডারেশন বারবার চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ জানায়। এরপরও কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে উত্থাপিত লাইসেন্সিং রুলের কয়েকটি বিধি ও উপ-বিধি সংশোধনীর প্রস্তাব করা হলেও তা আমলে নেয়নি রাজস্ব বোর্ড। এ কারণে গত বছর কয়েকবার কর্মবিরতি করেন তারা।
দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও রাজস্ব বোর্ড লাইসেন্সিং রুল সংশোধনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, এ বিষয়ে ফেডারেশনের নেতারা রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পরও কার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়নি। এতে দেশে কর্মরত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।#

আরো পড়ুন

সর্বশেষ