শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বেনাপোল সীমান্তে ভাষা দিবসের অনুষ্টানে দু পারের মানুষের মিলন মেলা-

আরো খবর

এম এ রহিম বেনাপোল:- উৎসব আনুষ্টানিকতা ও ভাবগম্ভীর্য্যের মধ্য দিয়ে বেনাপোল পেট্টাপোল সীমান্তের দ-ুপারের মোহনায় আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। ভাষা দিবসে সীমান্তের কাটা তারের বেড়ায় জড়ো হয় শত শত মানুষ। বেনাপোল চেকপোষ্টের বঙ্গপ্রান্তে আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবসের অনুষ্টানে সকাল ১১টার সময় জিরো লাইনের শহীদ বেদীতে ফুল দেয় দু পার বাংলার মন্ত্রী এমপি ও প্রশাসনের সদস্যরা। আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুল ও ক্রেষ্ট দিয়ে বরন করা হয়। দেওয়া হয় উত্তেরীয় ও মিষ্টি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে বাংলাদেশী শাড়ী ও মিষ্টি উপহার পাঠিয়ে দেওয়া হযেছে। তবে করোনার কারনে এবার রক্তদার কর্মসূচি করা হয়নি। পরে পৃথক দুটি ভাষা দিবসের মঞ্চ করা হলেও ভারতের পেট্টাপোলে সাংস্কৃতি অনুষ্টান উপভোগ করেন দু পারের মানুষ।
দুপার বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের মিলন মেলায় রুপ নেয়। মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে ভাষাপ্রেমীরা। সীমান্তে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের অনুষ্টানে দুপার বাংলার কবি শিল্পি সাহিত্যিক জন প্রতিনিধিসহ বাংলার মানুষ সীমান্তে সমবেত হয়। আবেগ আপ্লত তারা। বেনাপোল ও পেট্টাপোলে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ¯’ানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য,এমপি শেখ আফিল উদ্দিন,বনর্গা পৌর প্রশাসক শ্রী শংকর আঢ্য প্রমুখ।
নীয়মের বেড়াজালে আটকা আমরা। প্রতি বছর এই দিনের জন্য অপেক্ষায় থাকি দু পারের ভাষাপ্রেমী মানুষেরা। বাংলাভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে শহীদ ভাইয়েরা। আজ একই ভাষার মানুষেরা তারের বেড়া দুরে রেখেছে। এ বেড়া চান না তারা জানান সীমোন্তে জড়ো হওয়া ভাষাপ্রেমী মানুষেরা।
ভাষা ভাগ হয়নি দেশ ভাগ হয়েছে। তাই দুপার বাংলার মানুষ বাধভাঙা জোয়ারের ন্যায় আসছে সীমান্তের অনুষ্টানে। দেখা হবে স্বজদের সাথে। দিনভর চেয়ে থেকে অনেকে ফিরেছে বাড়ীতে। তারপরও ভাষা দিবসের অনুষ্টানে আসতে পেরে খুশি তারা।
ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে পালিত হয় অমর ২১। প্রশাসন সজাগ ও সতর্ক রয়েছে বলে জানান পোর্ট থানার ওসি মামুন খান
করোনা মহামারির কারণে’ দুই বাংলার প্রতিনিধিরা এ বছর বেনাপোল চেকপোস্টের শূন্যরেখায় নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে স্মরণ করলেন ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের,যাদের আত্মত‌্যাগের স্মরণে পুরো বিশ্ব একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করছেন মাতৃভাষার দিবস হিসেবে। বেনাপোলে স্টেজ প্রগ্রাম হয় সিমিত আকারে।
২০০২ সালে বনগাঁর কিছু সংস্কৃতি কর্মী ‘একুশে উদযাপন কমিটি’ গড়ে সীমান্তের শূন্য রেখায় একসঙ্গে মাতৃভাষা দিবস পালন শুরু করেন। সেই থেকে প্রতি বছরই এই দিনে খুলে যেত সীমান্তের গেইট, বসত দুই বাংলার মিলনমেলা।বিগত বছরগুলোতে দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধি ও মন্ত্রীরাও এই যৌথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন,বিনিময় করেছেন স্মারক ও উপহার।এবারও উপহার বিনিময় হয়েছে তবে জনসমাবেশ ছিল অন্যবছরের ন্যায় কম।
দুই বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটি আহ্বায়ক শার্শা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু বলেন, ‘করোনা মহামারির’ কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে উভয় দেশের আয়োজকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, “শুন্যরেখায় অস্থায়ী ভাবে তৈরি শহীদ বেদিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।একে অপরকে ফুল মিষ্টি উত্তেরীয় ও ক্রেষ্ট বিনিময় করেণ।
পেট্রাপোলে অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের ৬জন গনমাধ্যম কর্মিসহ১০০জনকে তারা আমন্ত্রণ জানান। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে আগামী বছর থেকে পুনরায় অনুষ্ঠান করা হবে।”
এর আগে দুই দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শূন্যরেখায় অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
এপার বাংলার পক্ষে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন,স্থানীয় সরকার পল্লীউন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এমপি,স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, বেনাপোল শুল্কভবনের কমিশনার আজিজুর রহমান,শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, অধাক্ষ ইব্রাহিম খলিল=ওসি মামুন খান,পৌর আওয়ামীলীগের সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
ওপার বাংলার পক্ষে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন,,প্রাক্তন বিধায়ক ও মেন্টর গোপাল শেঠ , বনগাঁ পৌরসভার প্রশাসক শঙ্কর আঢ্য,জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি কৃষ্ণ গোপাল ব্যানার্জী,বনগাঁ লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ শ্রীমতা মমতা বালা ঠাকুর, সাবেক বনগাঁ পৌরসভার প্রশাসক শ্রীমতী জ্যোৎস্না আঢ্য ও শ্রীমতী কৃষ্ণা রায়।এ সময় তাদের মধ্যে হয়েছে সংক্ষিপ্ত আড্ডা ও স্মৃতিচারণা।
ভারতের বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য বলেন, ২০০২ সালে ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দুই বাংলার ‘ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা-পদ্মা ভাষা ও মৈত্রী সমিতির’ উদ্যোগে সীমান্তবর্তী প্রায় ২০টি সংগঠন বেনাপোল-পেট্রাপোলের এই মিলন মেলার সূচনা করে। দিনে দিনে বেড়েছে এ মিলনমেলার পরিধি।তৈরি হয়েছে পারস্পরিক আস্থা ও ভালোবাসার বন্ধন।“তবে এবার নিরাপত্তাও করোনা মহামারির কারণে শূন্যরেখায় প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।স্বাস্থ্য বিধি মেনে সংক্ষিপ্ত একটি অনুষ্ঠান করা হয়েছে পেট্রাপোলে।”
স্থানীয় সরকার পল্লীউন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এমপি বলেন,“একুশের গৌরবের উত্তরাধিকারী পৃথিবীর সব বাঙালি।এর ব্যাপ্তি শুধু ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়,অনেক বিস্তৃত। ভাষার টানে বাঙালি জাতির নাড়ির টানে মাতৃভাষা দিবস পালন করতে এখানে এসেছি। ভাষার জন্য সংগ্রাম করে জীবন দিয়েছেন এমন নজির পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোথাও নেই। এ কারণে বাঙালি আজ বিশ্বের দরবারে গর্বিত।”
এমপি শেখ আফিল উদ্দিন বলেন“বাঙালির অর্জনকে দুই বাংলা একসঙ্গে পালন করছি,এটা খুবই গর্বের বিষয়। দুই দেশের মৈত্রীতে এটা অনুপ্রেরণা যোগাবে। ভাষার টানে আসা মানুষের মিলনমেলা ভাষীশহীদের আতœাকে শান্তি দিবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ