বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরের ঝিকরগাছায় পেশাদারিত্বের সকল রেকর্ড ছাপিয়ে টানা ১৫ বছর একই কর্মস্থলে থাকা প্রকৌশলী শ্যামল কুমার বসুকে নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। একই সাথে বেরিয়ে আসছে তার অপকর্মের ফিরিস্তি।
সোমবার ঝিকরগাছায় টক অব দ্যা টাউন ছিল প্রকৌশলী শ্যামল কুমার বসু। বিশেষ করে অফিসপাড়া এবং ঠিকাদারদের মধ্যে দিনভর চলে আলোচনা সমালোচনা ঝড়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এলাকার কয়েক জনপ্রতিনিধি বলেছেন, যে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার ৫ বছরের বেশী ক্ষমতায় থাকতে পারে না সেই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে কি ভাবে একই কর্মস্থলে এতগুলো বছর রয়েছেন তার হিসেব মিলছে না। যার প্রকৃত চিত্র সামনে আনা দরকার।
এ প্রসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত একজন আমলা বলেন, প্রজাতন্ত্রের কোনকর্মচারী দীর্ঘ মেয়াদি একই কর্মস্থলে থাকলে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতায় অন্তরায় সৃস্টি হতে পারে বা তিনি অনিয়ম দুর্নীতি স্বজন প্রীতিসহ নান অপকর্মে জড়িয়ে পড়তে পারেন। মূলত একারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর বদলি করা হয়। আবার কর্তব্য অবহেলা বা শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগেও শাস্তিমুলক বদলি করা হয়। বর্তমান সময়ে কোন কর্মকর্তার টানা এক যুগেরও বেশী সময় একই কর্মস্থলে থাকা অবাক ব্যাপার। এতে মনে হয় উল্লেখিত বিভাগের দায়িত্বশীলদের শৃংখলা প্রতিপালনে দুর্বলতা রয়েছে বা বিশেষভাবে ম্যনেজ হয়ে সংশ্লিষ্টরা নিরব ভুমিকায় রয়েছেন। যা ঘাটলে উভয়ই দোষী হতে পারেন।
ঝিকরগাছার কয়েক জন ঠিকাদার বলেছেন শ্যামল বসু ১৫ বছরে যে অপকর্ম করেছেন তার ফিরিস্তি অনেক বড়। উন্নয়ন কাজের এমন কোন স্তর নেই যেখানে তার অপকর্মের আছড় নেই। রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম দুর্নীতি। তার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে উপজেলায় দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
যার একটি নির্বাস খেলা ইউনিয়নে ৯২ লক্ষ টাকার কাজ এবং অপরটি শিমুলিয়া ইউনিয়নের ১ কোটি টাকার কাজ। এই দুইটি প্রকল্পের কাজ প্রায় ৬০ শতাংশ শেষ হওয়ার পর তিনি অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকার সাধারণ জনগণ।

