রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশনা সুফল পাচ্ছেন  দু দেশের ব্যাবসায়িরা  আমদানি রফতানি বানিজ্যে সৃষ্ট জটিলতার অবসান

আরো খবর

এম এ রহিম.বাংলাদেশঃ- অনেক জল্পনা ক্ল্পনার পর অবশেষে অনলাইনে পন্য বুকিং চালু হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের  মধ্যে আমদানি রফতানি বানিজ্যে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হতে শুরু করেছে। ভারতীয় পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশনায় উঠে গেছে বেসরকারি পার্কিং সিষ্টেম। মোটা অংকের ডেমারেজ ও হয়রানি অনিয়ম ও দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন আমদানি রফতানির সাথে সংশ্লিষ্টরা। ভারত সরকারের কোষাগারে জমা পড়ছে কোটি কেটি রুপি। এর সুফল পাচ্ছেন বাংলাদেশ ওভারতের ব্যাবসায়িরা। বেনাপোল পেট্টাপোল স্থলবন্দর দিয়ে চালু হয়েছে অনলাইন সিস্টেম। আমদানি রফতানি বানিজ্যে জট কমাতে স্বচ্ছতা ও গতি বাড়াতে উদ্যোগ নেয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার সহ বানিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট দফতর।  ভারত থেকে পণ্যবাহি ট্রাক নিয়ে বেনাপোল বন্দরে আসা হরেন মন্ডল ও কাত্তিক দেবনাথ বলেন.আগে পন্যবাহি ট্রাক নিয়ে দিনের পর দিন এমনকি মাসাধিকাল পর্যন্ত সিরিয়ালের নামে আটকে থাকতে হতো বনগাঁ কালিতলা পার্কে। হাজার থেকে লাখটাকা পর্যন্ত ডেমারেজ গুনতে হতো ব্যাবসায়িদের। মালের গুনগত মান হতো নষ্ট।  এখন নবান্ন থেকে নিয়ন্ত্রন হওয়া সিস্টেমে ১০হাজার টাকায় এক সপ্তাহের বুকিং নেওয়া হচ্ছে। ফলে ১থেকে৩দিনের মধ্যে সরাসরি পন্য পৌছে যাচ্ছে বাংলাদেশে। উপকৃত হচ্ছে রাষ্ট্র। কালিতলা পার্কের সাথে সংশ্লিষ্টরাসহ ট্রাক মালিকরা অতিরিক্ত টাকা আদায় থেকে বঞ্চিত হওয়ায় আন্দোলনের নামে বানিজ্যকে ব্যাহত করার অপচেস্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ বন্দর সংশ্লিস্টদের।
বাংলাদেশ ভারত চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমান গত ১০ বছর যাবৎ বাংলাদেশের প্রতিটি আমদানিকারক ঋণপত্র খোলার সময় পণ্যের মূল্যের সাথে বনগাঁ, কালিতলাপার্কিং এর ৩০-৩৫ দিনের ট্রাক ডিটেনশন চার্জও মালবাহি ট্রাক চার্জ উল্লেখ করে তার উপর আমদানিকারককে শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। গত এক দশক ধরে প্রতি বছর কমপক্ষে দুই হাজার কোটি টাকা পণ্যের মূল্য ও ট্রাক ভাড়া ছাড়া শুধুমাত্র কালিতলা পার্কিং ডিটেনশন চার্জ বাবদ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রিয় সরকারের সদ্বিচ্ছায় ও মাননীয় মূখ্য মন্ত্রীর উদ্যেগে বনগাঁ, কালিতলা পার্কিং সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়। দিল্লি বোম্বে সহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ হতে একটি ট্রাক আসার পর লোকাল গোডাউনে আনলোড করে রাখা হয়। পরবর্তীতে সেই একই পণ্য দুইটি ট্রাকে লোড করে বেনাপোলে পাঠানো হয় যা ঋণ পত্রের শর্ত বহির্ভূত। এলসি তে পার্ট শিপমেন্ট
অনুমোদন থাকলেও ট্রান্সশিপমেন্টের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকে।  বনগাঁ পার্কিং সিন্ডিকেট ট্রাকের ভুয়া নম্বর দিয়ে এন্ট্রি করে রাখা হতো। পরবর্তীতে সেই সিরিয়াল নাম্বর পঞ্চাশ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো। সম্প্রতি বিভিন্ন পণ্যের
ইনভয়েজের মূল্যের সাথে কত মালবাহি ট্রাকের চার্জ উল্লেখ করা হয়েছে তা বিশ্লেষণে জানা য়ায় একটি গ্লশ ইন্ড্রাস্টি্র কর্তৃক আমদানিকৃত কেমিক্যাল ব্রীক্স ০৪ টি ট্রাকে আমদানি হয়েছে। সেখানে ডিটেনশনহ সহ মালবাহি চার্জ উল্লেখ আছে ৮,০০০ ডলার অর্থাৎ একটি ট্রাকের ভাড়া ও  ডিটেনশন চার্জ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে এক লক্ষ একাশি হাজার টাকা। এই ভাড়া পণ্যের মূল্যের সাথে সংযোগ করে শুল্ক পরিশোধ করা হয়। একটি ঔষধ শিল্পের ২ টন পণ্য আমদানি হয়েছে যার ডিটেনশনসহ মালবাহি চার্জ উল্লেখ আছে ৩,১০০ ডলার অর্থাৎ একটি ট্রাকের ভাড়া দুই লক্ষ উনসত্তর হাজার টাকা। একটি ইলেকট্রনিক্স প্রতিষ্ঠানের নামে ১২০ টি কেমেক্যাল চালান একটি ট্রাকযোগে আমদানি হয়েছে। যার ডিটেনশন সহ মালবাহি চার্জ উল্লেখ আছে ৩,২০০ ডলার। অর্থাৎ একটি ট্রাকের ভাড়া দুই লক্ষ সাতাত্তর হাজার পাঁচশত টাকা। ভারতের যেকোন প্রদেশ হতে বেনাপোলে পণ্য আসলে সাধারনত ডিটেনশন
ছাড়া ভাড়া হয় দেড় লক্ষ টাকা। পশ্চিম বাংলা সরকারের পরিবহন দপ্তর অনলাইনে ¯স্লট বুকিং চালু করায় ভারতের যেকোন প্রদেশ হতে ট্রাক কোলকাতায় এসে পৌছানোর পর ১-২ দিনের মধ্যে বেনাপোলে পৌছে যাচ্ছে। ফলে খুশি ব্যাবসায়িরা।এ বিষয়ে উভয় দিকে সরকারী কর্মকর্তারগণ বিশেষ করে ভারতীয় প¦র্শে পরিবহন দপ্তর, বন্দর কাস্টমস এবং বেনাপোল কাস্টমস্ ও পোর্ট এলপিআই নিয়মিত তদারকি
করলে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশে বনগাঁ পার্কিং সিন্ডিকেটের ডিটেনশন হতে চিরতরে মুক্তি পাবে এবং
বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও সাধারন ক্রেতারা উপকৃত হবে বলে আশা করেন তিনি।
ভারতের পেট্টাপোলে ষ্টাফ এসোসিয়েশনের সভাপতি কাত্তিক চক্রবর্তী জানান বাবিজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তারা তবে উভয়ের বিষয়টি সমন্বয়ের পক্ষে মত প্রকাশ করেন তিনি।
বেনাপোল বন্দর উপপরিচালক মামুন কবির তরফদার বলেন আমদানি রফতানি বানিজ্যে গতি ও স্বচ্ছতা ফেরানোসহ সৃষ্ট সনস্যা নিরসনে আন্তরিক তারা। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নতুন সিদ্ধান্তে উপকৃত হবেন বাংলাদেশের ব্যাবসায়িরা।
সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান বাড়ছে আনদানি রফতানি। কমছে জটিলতা এসময়ে উভয় বন্দরে জায়গা ও ইকুপমেন্ট বৃদ্ধির দাবী জানান তিনি।।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ