শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ভালুকঘর ফাযিল মাদ্রাসার নিয়োগ বোর্ড অবৈধ, দাবি গভর্ণিংবডির ৪ সদস্যের

আরো খবর

কেশবপুর প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরের ভালুকঘর ফাযিল মাদ্রাসায় জনবল নিয়োগে গঠিত নিয়োগ বোর্ড অবৈধ বলে দাবি করেছেন গভর্ণিংবডির সদস্যরা। তাদের অভিযোগ নিয়োগ বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম দুর্নীতি এবং মিথ্যার আশ্রয় নেয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক সদস্য হায়দার আলী ও মঞ্জরুল ইসলাম বলেন, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবিধান এবং মাদ্রসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারিকৃত সর্বশেষ পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে কমিটি বা নিয়োগ সংক্রান্ত কোন মামলা থাকলে নিয়োগ কার্যক্রম চালানোর জন্য বিশ^বিদ্যালয় এবং ডিজির প্রতিনিধি অনুমোদন দেয়া হবে না। যা নিয়োগ বোর্ডের জন্য আবশ্যক।
এক্ষেত্রে চরম মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ চিত্ত রঞ্জন মন্ডল। তিনি তিনশত টাকার ষ্টাম্পে লিখে দিয়েছেন কমিটি বা নিয়োগ সংক্রান্ত আদালতে কোন মামলা নেই। অথচ যশোর সহকারী জজ আদালতে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে।

দাতা সদস্য ইব্রাহীম হোসেন বলেন, পরীক্ষার জন্য কম পক্ষে ৭ দিন আগে চাকরি প্রত্যাশিদের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের পত্র দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেখানে নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়ে ৮ মার্চ পরীক্ষার তারিখ ঘোষনা করে প্রবেশ পত্র ছাড়া হয়েছে গত ৫ মার্চ।

তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একবছরের অধিক কোন প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকলে তাদের স্বাক্ষরিত কোন কাগজ পত্র বৈধ হবে না মর্মে ইসলামি আরবি বিশব বিদ্যালয়ের প্রবিধান এবং মাদ্রসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর পরিপত্রে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। অত্র পতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে চলছে কয়েক বছর যাবত। সর্বশেষ চিত্ত রঞ্জন মন্ডলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুমোদন নেয়া হয়নি। একারণে তিনি যা করছেন সবই অবৈধ বলে দাবি করেন ইব্রাহীম হোসন।

তিনি বলেন,ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যরয়ের প্রবিধানে বলা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে থেকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রাপ্তির জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক হলে তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও অধ্যক্ষ পদে আবেদনের অনুমতি চেয়ে গভর্ণিং বডির সভাপতি বরাবর আবেদন করবে। সভাপতি বিষয়টি গভণিং বডির সভায় উপস্থাপন করবেন। গভর্ণিং বডির অনুমোদন পুর্বক বিধি মোতাবেক তাকে অব্যাহতি দিবেন। এর পর তিনি অধ্যক্ষ পদে আবেদন করবেন। কিন্ত মাছিহুর রহমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে থেকে আবেদন করেছেন এবং গভর্ণিং বডির সভাও আহবান করেন। যার মাধ্যমে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবিধানে ১০ এর ৩ ধারা লংঘন করা হয়েছে। অর্থাৎ তার আবেদন অবৈধ।

যা গভর্ণি বডির সভায় উত্থাপন করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেস্টা করেন সভাপতি। এ নিয়ে সদস্যদের সাথে তার বাক বিতান্ডা হয়।
অবশ্য ওই সভা ৩ নির্বাচিত সদস্যসহ মোট ৫ জন বয়কট করেছিলেন। তার পরও বিধি লংঘন করে মাছিহুর রহমানের আবেদন পত্র বৈধ করেছেন সভাপতি। তার কাছ থেকে মোটা দাগে অর্থ নেয়া হয়েছে বলে এলাকায় চাউর রয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে মাছিহুর রহমানের খোশ মেজাজে দেখা যাচ্ছে। ভাবসাব দেখে মনে হয় তিনি পরীক্ষার আগেই অধ্যক্ষ হয়ে বসে আছেন। মঙ্গলবার তিনি তার বড় শ্যালক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার আব্দুল খালেক সানার কাছে গিয়ে দোয়া নেন এবং নিয়োগ পরীক্ষা দেখতে যাওয়ার আমন্ত্রন জানান।

ইব্রাহীম হোসেন জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকাকালীন বর্তমান সভাপতির সাথে তার(মশিহুর রহমানের) নিগুঢ় সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা দুজন কমিটির অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের ফান্ড থেকে টাকা তুলে নয় ছয় করেছেন। এই সম্পর্কের আরো একটি কারণ হচ্ছে একতরফা তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে এডিসি শিক্ষাকে সভাপতি বানানোর পিছনে মশিহুর রহমান মুখ্য ভুমিকা পালন করেন।
এর উপহার হিসেবে তিনি(সভাপতি) মশিহুর রহমানের অবৈধ দরখাস্ত বৈধ করে অধ্যক্ষ বানাতে চাচ্ছেন।
প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক জানান, তারা প্রথম থেকে শুনে আসছিলেন মশিহুর রহমান উপাধ্যক্ষ পদে আবেদন করবেন। কিন্তু পরে জেনেছি সভাপতির ইচ্ছায় তিনি অধ্যক্ষ পদে আবেদন করেছেন।

এবিষয়ে দাতা সদস্য ইব্রাহীম হোসেন মোল্যা বলেন, ডিগ্রি মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য যেসব আবেদন জমা পড়েছে তাদের মধ্যে তার একাডেমিক যোগ্যতা সবার নীচে। তিনি কর্মজীবনে প্রকৃত তথ্য গোপন করে উচ্চতর স্কেল ভোগ করছেন।যা সম্প্রতি মিনিস্ট্রি অডিটে ধরা পড়ে।

তার পরও তাকে অধ্যক্ষ পদে বসানোর জন্য কামাল হোসেন গং তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। তাদের উদ্দেশ্য নিয়োগ বানিজ্য এবং অধ্যক্ষের চেয়ারে পতুল বসিয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখা। মুলত একারনেই তার কমিটির প্রাণ দাতা বা অভিভাবক সদস্যদের বাদ দিয়ে তড়িঘড়ি করে বোর্ডের আয়োজন করেছেন। আবার তা করা হয়েছে সভাপতির দপ্তরে। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ