শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ভালুকঘর মাদ্রাসা: নিয়োগ স্থগীতের নোটিশ দিয়ে বোর্ড করলেন গোপনে

আরো খবর

কেশবপুর প্রতিনিধি: কেশবপুরের ভালুকঘর মাদ্রাসায় নিয়োগ স্থগীতের নোটিশ দিয়ে  গোপনে পাতানো বোর্ড করে অর্থ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে এলাকায় সৃস্টি হয়েছে বিরুপ প্রতিক্রিয়া। পাতানো নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি জানিয়েছেন চাকরি প্রত্যাশিরা। তারা বলেছেন, নিয়োগ বোর্ড স্থগীতের নোটিশ দেয়ায় তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

ওই মাদ্রসার অধ্যক্ষসহ ৪টি কর্মচারী পদে নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষনা করে ৫ মার্চ বৈধ প্রার্থীদের নামে প্রবেশ পত্র জারি করা হয়। এর দুই দিন পর ৭ মার্চ মাদ্রসার বোর্ডে টাঙ্গিয়ে দেয়া হয় নিয়োগ বোর্ড স্থগীতের নোটিশ।

অধ্যক্ষ চিত্ত রঞ্জন মন্ডল স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয় আদালতে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা থাকার করণে বোর্ড স্থগীত রাখা হলো। যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

পর দিনি ফের নোটিশ জারি না করে এডিসি শিক্ষার কার্যালয়ে গোপনে বোর্ড বসিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে অনেক বৈধ প্রার্থী ওই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। গভণিং বডির দাতা এবং নির্বাচিত অভিভাক সদস্যরা এই নিয়োগের খবর জানানে না। পছন্দের প্রার্থীদের মোবাইল ফোনে ডেকে এনে টাকার বিনিময় তাদেরকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

গভর্ণি বডির দাতা সদস্য ইব্রাহীম হোসেন বলেছেন, টাকার বিনিময় পাতানো বোর্ড করা হবে এমন খবর জানতে পেরে তিনি আদালতে মামলা করেন। এ ছাড়ওা পুর্বে আরো দুটি মামলা হয়। যা চলমান রয়েছে। যার মামলা নং যথাক্রমে সিআর ৭৫/২৩, ৩৫৭/২৩ এবং ৫১/২৪। মাদ্রসা শিক্ষা বিভাগের পরিপত্রে বলা আছে মামলা থাকালে তা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নিয়োগ কার্যক্রম চালানো যাবে না। মামলার বিষয়ে মিথ্যা হলফ নামা দিয়ে তারা এই নিয়োগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা বানিজ্য করেছেন।

ল্যাব সহকারী পদে দরখাস্তকারী মনিরুজ্জামান বলেন, নিয়োগ বোর্ড স্থগীতের নোটিশ দেখে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এত তার অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে। তিনি পাতানো নিয়োগ বোর্ড বাতিল করে পুণরায় বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

এবিষয়ে লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীক্ষার জন্য কম পক্ষে ১৫ দিন আগে বৈধ প্রার্থীদের ছবিসহ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের পত্র দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেখানে নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়ে ৮ মার্চ পরীক্ষার তারিখ ঘোষনা করে ছবি বিহীন প্রবেশ পত্র ছাড়া হয় গত ৫ মার্চ। যা নিয়োগ পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগে।

ইসলামি আরবি বিশ্ব বিদ্যরয়ের প্রবিধানে বলা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে থেকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রাপ্তির জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক হলে তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও অধ্যক্ষ পদে আবেদনের অনুমতি চেয়ে গভর্ণিং বডির সভাপতি বরাবর আবেদন করবে।

সভাপতি বিষয়টি গভণিং বডির সভায় উপস্থাপন করবেন। গভর্ণিং বডির অনুমোদন পুর্বক বিধিমোতাবেক তাকে অব্যাহতি দিবেন। এর পর তিনি অধ্যক্ষ পদে আবেদন করবেন। কিন্ত মাছিহুর রহমান নামে একজন প্রার্থী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে থেকে আবেদন করেছেন এবং গভর্ণিং বডির সভাও আহবান করেন। যার মাধ্যমে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবিধানে ১০ এর ৩ ধারা লংঘন করা হয়েছে। অর্থাৎ তার আবেদন অবৈধ।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকাকালীন বর্তমান সভাপতির সাথে তার নিগুঢ় সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা দুজন কমিটির অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের ফান্ড থেকে টাকা তুলে নয় ছয় করেছেন। এই সম্পর্কের আরো একটি কারণ হচ্ছে একতরফা তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে এডিসি শিক্ষাকে সভাপতি বানানোর পিছনে মশিহুর রহমান মুখ্য ভুমিকা পালন করেন।
এর উপহার হিসেবে তিনি(সভাপতি) মশিহুর রহমানের অবৈধ দরখাস্ত বৈধ করেন এবং সর্বশেষ পাতানো বোর্ডে তাকে প্রথম স্থান করে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছেন।

অন্যদিকে নিয়োগ বানিজ্যের বিষয়ে যাদের নামে মামলা রয়েছে শুক্রবার পাতানো নিয়োগ বোর্ডে তাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যা নিয়ে এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃস্টি হয়েছে। তারা বলেছেন নিয়োগ বানিজ্যের পাতানো বোর্ডের বৈধতা নেই।
এব্যাপারে মাদ্রসার সভাপতি এডিসি শিক্ষা ও আই সিটি খালেদা খাতুন রেখার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাদ্রসা শিক্ষা অধিদপ্তরের বিবিধান মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

 

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ