শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ভুল ঠিকানায় সৌদি প্রবাসীর লাশ দাফন

আরো খবর

বাগআঁচড়া প্রতিনিধি:যশোরের শার্শা উপজেলা বাগুড়ী গ্রামের  সৌদি প্রবাসী রুবেল হোসেনের মৃতদেহ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা বিভ্রান্তি। তিনি গত (৩ জুলাই) সৌদি আরবে বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টার সময় মৃত্যু বরণ করেন।
মৃতদেহ বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে (২৬ জুলাই) বুধবার দুপুর ২টার সময় রুবেল হোসেনের নিজ গ্রামে এলে মৃতদেহ দেখার পরে তৈরি হয় নানা ধূম্রজাল। মৃতদেহ টি দেখে রুবেল হোসেনের মা, বাবা ও পরিবারের কেউ চিনতে পারিনি যে এটা তাদের সন্তান। পরে অনেকটা ইচ্ছার বাহিরে মৃতদেহটি বুধবার রাত ৮ টার সময় বাগআঁচড়া সাধারণ গোরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত রুবেল হোসেন শার্শা উপজেলা ৭নং কায়বা ইউনিয়নের বাগুড়ী দক্ষিণপাড়া গ্রামের মোঃ ফারুক হোসেনের ছেলে।
জানা গেছে, মাত্র এক বছর আগে পরিবারের সামান্য  সুখের জন্য রুবেল হোসেন (বিদেশ) সৌদি আরবে যায়। সে ওখানে একটি মাদ্রাসায় পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু কুরবানী ঈদের কারনে দুই মাস ওই মাদ্রাসা টি ছুটি হয়ে যায়।
ছুটির কারণে মাদ্রাসায় কাজ না থাকায় রুবেল হোসেনের একজন পরিচিত ব‍্যক্তির সাথে অন্য জায়গায় সেফটি ট্যাংক পরিষ্কার করার কাজে যায়। ওই সেফটি ট্যাংকে মধ্যে পড়ে রুবেল হোসেন অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তার সহযোগীরা সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রুবেল হোসেনের মা ময়না খাতুন বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যে মৃতদেহ টি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এটি আমার ছেলের মৃতদেহ না। যাতে আমি আমার ছেলের মৃতদেহ দ্রুত পায় সেই ব্যবস্থা করা হোক।
অন‍্যদিকে যে মৃতদেহ টি (২৭ জুলাই) বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মৃত রুবেল হোসেনের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যে লাশটি ভুলে রুবেল হোসেনের ঠিকানায় পাঠানো হয় সেটি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার জবডল গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে সৌদি প্রবাসি মৃত মোজাম্মেল হকের।
বৃহস্পতিবার বিকাল পাঁচটার দিকে যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদারের অনুমতিক্রমে মোজাম্মেলের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোল করা হয় এবং   স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ আলতাফ হোসেনের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়।
শার্শা প্রতিনিধি জানান,  দীর্ঘ ২৫ বছর সৌদিতে প্রবাস জীবন যাপন করছিলেন মোজাম্মেল হক। গত ১৭ জুলাই  তার মৃত্যু হয়। এদিকে শার্শার বাগুড়ী গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে সৌদি প্রবাসী রুবেল হোসেন গত ৩ জুলাই সৌদিতে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন। উভয়ের লাশ সৌদিতে একই হিমাগারে রাখা হয়। কিন্তু  ভুল সনাক্তের কারনে মোজাম্মেল হকের মর দেহটি শার্শার বাগুড়ী গ্রামে পৌছালে বুধবার রাতে বাগআঁচড়া কায়বা রাড়ীপুকুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এমতাবস্থায় মৃত্যু মোজাম্মেল হকের সৌদি প্রবাসী এক ভাইপো  তার মৃত্যু দেহ কফিন করার সময় দেখে যে লাশটি তার চাচা মোজাম্মেল হকের নয়।
সে জানতে পারে রুবেলের পরিবর্তে তার চাচা মোজাম্মেল হকের লাশ শার্শার বাগুড়ী গ্রামে পৌঁছে গেছে। এই সংবাদটি সে তার দেশের বাড়ী পৌঁছে দিলে মোজাম্মেল হকের ভগ্নিপতি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার জবডব গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে ইনামুল হক সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন শরণাপন্ন হন। এসময় স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতে মোজাম্মেল হকের লাশটি কবর থেকে উত্তলন করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
এব্যাপারে  কায়বা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন বলেন,কিশোরগঞ্জ সৌদি প্রবাসী মোজাম্মেল হকের মরদেহটি ভুল বসত কায়বার বাগুড়ী গ্রামে পৌছালে তার পরিচয় না পাওয়ায় বুধবার রাতে স্থানীয়রা দাফন করেছিল। পরে তার পরিবারের লোকজন তার মর দেহটি সনাক্ত করলে লাশটি উত্তলন করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এবিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নারায়ণ চন্দ্র পালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। তবে এটি আমার দায়িত্ব না। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ