রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ভোক্তা-অধিকার সংরণ অধিদপ্তরের অভয়নগরে অভিযান ৪ প্রতিষ্ঠানকে ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা

আরো খবর

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
তিকর ভয়ঙ্কর রাসায়নিক হাইড্রোজের ব্যবহারে ভাসছে যশোরের শিল্পশহর নওয়াপাড়া। মিষ্টি ও অন্যান্য খাবারে অত্যন্ত তিকর এই রাসায়নিক ব্যবহারের পাশাপাশি, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির অনিয়মই যেন এখানকার নিয়মে পরিণত হয়েছে। পবিত্র ‘বিসমিল্লাহ’ নামের প্রতিষ্ঠানসহ নওয়াপাড়া বাজারের উল্লেখযোগ্য প্রায় প্রতিটি খাবার হোটেলেই এই অনিয়ম ল্য করা গেছে।

বুধবার (২৭ জুলাই) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরণ অধিদপ্তর অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক এসব চিত্র দেখতে পায়। এসময় ভোক্তা-অধিকার লঙ্ঘনজনিত অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরাধী এসব প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে রয়েছে :

বিসমিল্লাহ হোটেল : মিষ্টি ও অন্যান্য খাবারে তিকর রাসায়নিক হাইড্রোজ ব্যবহার, বাসি-পুরানো মুরগির গ্রিল (ঝলসানো মাংস), ছানা ও খামি কাঁচা মাছ-মাংসের সাথে সংরণ করে আসছে পবিত্র ‘বিসমিল্লাহ’ নামাঙ্কিত হোটেলটি। তাদের ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করে আদায় করা হয়।
বাসি-পুরানো মুরগির গ্রিল, ছানা ও খামি কাঁচা মাছ-মাংসের সাথে সংরণ করে হয় নওয়াপাড়ার হোটেলে,

পার্বণ : নওয়াপাড়া বাজারের নামি হোটেল পার্বণের মিষ্টি ও অন্যান্য খাবারেও তিকর রাসায়নিক হাইড্রোজ ব্যবহারের প্রমাণ মেলে। সাথে দেখা যায় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও সংরণ করতে। এজন্য এই হোটেলকেও জরিমানা করা হয় ১৬ হাজার টাকা।

সাতীরা প্লাস : এখানে বাসি-পুরানো রান্না করা মাছ, মাংস, বিরিয়ানি, পিজ্জা, মুরগির গ্রিল (ঝলসানো মাংস), ছানা ও খামি কাঁচা মাছ-মাংসের সাথে সংরণ করা হচ্ছিল। সাথে ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ বেকিং পাউডারের ব্যবহার। এখানে জরিমানা ১৮ হাজার টাকা।

প্যারাডাইস হোটেল : বাসি-পুরানো রান্না করা তরকারি, ফ্রাইড রাইস ও খামি কাঁচা মাছ-মাংসের সাথে সংরণ করার অপরাধে জরিমানা আদায় করা হয় ৪ হাজার টাকা।

অভিযানে জব্দকৃত হাইড্রোজ ও বাসি খাবার ধ্বংস করা হয়।
ইলেকট্রিক পণ্যের দোকানকে নতুন দামে পুরানো দামের পণ্য বিক্রি না করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

অভিযানকালে কয়েকটি ইলেকট্রিক পণ্যের দোকানকে বেশি দামে (স্টিকার দিয়ে নতুন দামে পুরানো দামের পণ্য বিক্রি) পণ্য বিক্রি না করার এবং আইন মেনে যথাযথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরণ অধিদপ্তর, যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ওয়ালিদ বিন হাবিব। সহযোগিতায় ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপ, যশোরের নিরাপদ খাদ্য অফিসার শাকিল আহম্মেদ।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ