ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:
দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অস্থিরতার মধ্যেও চলতি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর থেকে ৫১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এই সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সেই হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১২৭ কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে এই স্থলবন্দর।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব বিভাগের এই তথ্যে বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বন্দরে বিদ্যমান নানা অবকাঠামোগত সংকট এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বাণিজ্যের কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরছে না।
এদিকে, কাগজেই সীমাবদ্ধ কাস্টমস হাউস বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতাদের এমন অভিযোগ। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোমরা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ ‘কাস্টমস হাউস’ ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাগজেকলমে মর্যাদা বাড়লেও বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরের মতো সব ধরণের পণ্য আমদানির অনুমোদন এখানে থাকলেও সুযোগ-সুবিধার অভাবে আমদানিকারকরা এই বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছে।
ভোমরা স্থলবন্দরে পদ থাকলেও কমিশনার না থাকায় বন্দরে কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে- এমন মন্তব্য ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের ।
ব্যবসায়ী নেতারা ভোমরা ভোমরা স্থলবন্দর কাস্টমসে দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণকালীন কমিশনারের পদ শূন্য রয়েছে। এর ফলে আমদানিকৃত পণ্যের এইচএস কোড (পণ্য শনাক্তকরণ কোড) নির্ধারণ ও শুল্কায়নের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হলে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যাচ্ছে না।
তাঁরা আরও বলেন, পণ্য ছাড়করণের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা কেবল কমিশনারের। কিন্তু সেই পদটি শূন্য থাকায় অনেকটা ‘মাঝিবিহীন নৌকার’ মতো ধীর গতিতে চলছে বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এছাড়া জনবল সংকট ও প্রশাসনিক স্থবিরতাকেও বাণিজ্যের অন্যতম বাধা।
বন্দর ব্যবহারকারীরা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কমিশনার নিয়োগের মতো বিষয়গুলো সমাধান হলে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরটি রাজস্ব আহরণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু হাসান বলেন, ভোমরা কলকাতা থেকে বাংলাদেশের অন্যান্য বন্দরের তুলনায় দূরত্ব কম। সে কারণে এই বন্দরে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এই বন্দর ব্যবহার করে আমদানি রপ্তানি ব্যবসা করতে পারবেন। এছাড়া বন্দর কাস্টমস হাউসে হাউজে একজন পূর্ণকালীন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হলে বন্দরের কাজে গতি আসবো।
তিনি আরও বলেন, বন্দরে ওয়্যারহাউসজ নির্মাণ, বিভিন্ন ধরণের আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্য পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য যন্ত্রপাতি যথাযথ ব্যবস্থা করা হলে বন্দরের সামগ্রিক গতি ফিরবে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা সহজে এই মন্ত্র ব্যবহার করে ব্যবসা করতে পারব। এখান থেকে সরকার বড় আকারের রাজস্ব আদায় করতে পারবে।
ভোমরা স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার মোস্তফা কামাল বলেন, ‘স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন উপায়ে সব ব্যবসায়ীর জন্য এখানে ব্যবসায় বাণিজ্য করার সমান সুযোগ রয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করায় রাজস্ব আদায় গতিশীল হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অর্থবছরের শেষে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, এমনকি তা ছাড়িয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে’।

