রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মণিরামপুরে নাজিরের টি আর প্রকল্পের টাকা উত্তোলন,টক অব দ্যা টাউন

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি: মণিরামপুরে প্রকল্প সভাপতির স্বাক্ষর ছাড়া টি আর প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের সাথে সরকারি ৪ প্রতিষ্ঠান জড়িত বলে দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। তারা মনে করেন স্বচ্ছতা এবং জবাব দিহিতা নিশ্চিত করতে ঘটনাটির তদন্ত হওয়া জরুরী। কারণ বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতি জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃস্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি জানান, মনিরামপুরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্পের সভাপতিদের স্বাক্ষর
না নিয়ে ৫১ প্রকল্পের শেষ কিস্তির ৬৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা উঠানো হয়। ৩০ জানুয়ারি বিকালে সোনালী ব্যাংক মনিরামপুর শাখা থেকে ইউএন অফিসের নাজির আবু শাহিন আলম  এই টাকা উত্তোলন করেন। বিষয়টি জানাজানির পর তোড়পাড় শুরু হয়।

ঘটনাটি এখন গোটা উপজেলায় টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে। রাজনৈতিক সামাজিক অঙ্গন এমনকি চায়ের দোকানেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে চলেছে। অনেকে আঙ্গুল তুলছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং তার অফিসের নাজির শাহিন আলমের দিকে। তাদের প্রশ্ন পি আইও অফিসের প্রকল্পের টাকার সাথে তারা কেন জড়ালেন। এর রহস্য উদঘটন হওয়া দরকার। তবে এ ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক,এজি অফিস এবং পিআইও অফিসকেও ছাড় দিচ্ছেন না তারা। তাদের বক্তব্য ত্রুটিযুক্ত কাগজ দিয়ে এতগুলো টাকা ছাড় করার দায় তারা এড়াতে পারেন না।

এব্যাপারে মণিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের প্রথম কিস্তি পাওয়ার পর কাজ শুরু হয় এবং কাজ শেষ করে ভাউচার দাখিলের পর তা যাচাই বাচাই করে শেষ কিস্তির বিল দেয়া হয়। প্রত্যেক বিলে প্রকল্প সভাপতির স্বাক্ষর বাধ্যতামুলক। কিন্ত আমরা জানতে পারিনি কবে শেষ কিস্তির বিল তোলা হয়েছে। ঘটনার একদিন পর ইউএনও অফিস থেকে ফোন করে তাকে শেষ কিস্তির বিল নিয়ে যেতে বলা হয়।

এব্যাপারে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা রিজিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, টি আর বা কাবিটা প্রকল্পের শুধুমাত্র প্রকল্প সভাপতি ছাড়া আর কারো তোলার এখতিয়ার নেই। ব্যাংক ৫১ টি প্রকল্পের টাকা কিভাবে নাজির শাহিন আলমের কাছে দিলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে সেটি সংশ্লিষ্ঠ ব্যাংক ম্যানেজার ভাল বলতে পারবেন বলে তিনি জানান। তবে প্রক্রিয়াটি মাটেও বৈধ নয় বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন বলেন, ৩১ জানুয়ারী টাকা উত্তোলনের শেষ দিন থাকায় প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে যে সব ত্রুটিছিল তা পরে সংশোধন করা হয়েছে। তিনি বা তার অফিসের নাজির কেন এই টাকা তুললেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পিআইও না থাকায় তাকে এমন পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উত্তোলিত টাকা ব্যাংকের অপর একটি হিসাবে জমা রাখা আছে। এখন প্রকল্প যাচাইবাছাই করে তা ছাড় করা হবে।

এব্যাপারে প্রকল্প কর্মকর্তা বায়োজিত হোসেনর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে টাকা উত্তোলন করতে হবে মন্ত্রণালয়ের এমন কোন শর্ত নেই। ৩০ জুন পর্যন্ত তারা ওই টাকা তুলতে পারবেন। তবে শর্ত আছে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করে এজি অফিসের কাগজ ছাড় করাতে হবে। অপর এক পশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

সর্বশেষ খোজ নিয়ে জানা গেছে আলোচিত নাজির শাহিন আলম সোমবার প্রকল্প সভাপতিদের ডেকে এনে শেষ কিস্তির টাকা বিতরণ করেছেন।

এব্যাপারে মণিরামপুরের কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছেন. তারা সরেজমিনে অনেক প্রকল্পের হদিস পাননি। অথচ সোমবার বেশ কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ডেকে ব্যাক ডেটে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের অনুকুলে শেষ কিস্তির টাকা ছাড় করা হয়েছে। যা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃস্টি হয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ