মণিরামপুর (যশোরে) প্রতিনিধি:
বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার ফারুক মিন্টুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢুকে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর করা হয়েছে। যার ইন্ধন দিয়েছেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু। শনিবার দুপুরে মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের পুরাতন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৪ মে মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্তরে মণিরামপুরের নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলুকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আক্তার ফারুক মিন্টুর উপস্থিতিতে কিছু উশৃঙ্খল ব্যক্তিরা জোরপূর্বক মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
প্রবেশের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম ইয়াকুব আলীর ছবি সম্বলিত ব্যানার ছিড়ে অবমাননা করা হয়। একই সাথে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করা হয়।
খবর পেয়ে পরদিন ২৫ মে ঘটনাস্থলে যান এমপি এসএম ইয়াকুব আলী ও সম্পাদক ফারুক হোসেনসহ নেতাকর্মীরা। মনোহরপুর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, পুলিশ প্রশাসন, গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে তালা খোলা হয়।
প্রবেশ করতেই দেখতে পায় ভাংচুর অবস্থায় পড়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও সংসদ সদস্যদের প্যানা। তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের বাঁচাতে সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দলের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জড়িয়ে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য উপাস্থাপনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং মূল অপরাধীদের শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
লিখিত বক্তব্যে প্রভাষক ফারুক হোসেন বলেন, ৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এস এম ইয়াকুব আলীর কাছে ভোটের মাধ্যমে পরাজিত হন সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। পরাজয়ের পর থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য এস এম ইযাকুব আলীকে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছেন স্বপন ভট্টাচার্য্য। এরপর ৮ মে মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর থেকে এই ষড়যন্ত্র আরো দানা বেধেছে। উপজেলার দালাল টাইপের কতিপয় বিএনপি নেতাদের সাথে নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাকমীর্দের উপর হামলা চালানো হচ্ছে।
ইতিমধ্যে মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢুকে ভাংচুরের ঘটিয়েছে তারা।
আমজাদ হোসেন লাভলু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ—সভাপতি হাসেম আলীসহ বেশ কিছু নেতাকর্মীকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এছাড়া কাশিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান তহিদুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও রহস্যজনক কারণে তা আমলে নেয়া হয়নি।
এসব ঘটনায় মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের অনেকেই আতংকে দিন কাটাচ্ছে।
এমপি এসএম ইয়াকুব আলী অভিযোগ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে দলের এক শ্রেনীর নেতাকর্মী একই দলের লোকজনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন, তাদেরকে মারপিট করা সহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। যা আওয়ামী লীগের জন্য শুভকর নয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, হাসেম আলী, গৌর কুমার ঘোষ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ কুমার ঘোষ, ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হক মন্টু, হাফিজ উদ্দিন, ফারুক হুসাইন, পৌর কাউন্সিলর বাবুুল আকতার, মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি কালী পদ মন্ডল, ভোজগাজী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মোড়ল, মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, মহিতুজ্জামান মহিত প্রমুখ।

