শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মণিরামপুরে স্কুল ছাত্র শিমুল হত্যা: তদন্তে অসঙ্গতি,বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুরে স্কুল ছাত্র শিমুল হত্যা মামলার নতুন মোড় নিয়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চাচাতো ভাই সবুজের সুন্দরী স্ত্রী আসমিরার সাথে পরকীয়া সম্পর্ক হত্যার কারণ হতে পারে। এমন কিছু তথ্য উঠেছে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে।

কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টির গভীরে না গিয়ে এলাকার কয়েকজন নিরিহ ব্যক্তির নামে চার্জশিট দিয়েছেন। যাদের মামলার এজাহারে কোন নাম ছিল না। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক হয়রানিমুলক মামলায় তাদের ফাঁসানো হয়েছে। সে সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা সব জেনেও অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে মামলা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে দাবি তাদের।

 

স্থানীয়রা জানান, শিমুল হত্যার পর আতœগোপনে চলে যান সবুজ। পরে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরবর্তীতে অর্থ বানিজ্য এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। আসামি করা হয় তাবলীগ করা আব্দুস সামাদসহ তার পরিবারের অপর দুই সদস্যকে।

 

এ প্রতিবেদকের হাতে পুলিশের যে তদন্ত প্রতিবেদন এসেছে তা বিশ্লেষণে দেখা গেছে অসংখ্য ভুল ভ্রান্তি এবং নানা অসঙ্গতি। মামলার কয়েজন স্বাক্ষী দাবি করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজেই বয়ান লিখে তাদের দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। স্বাক্ষী আবু মুছার জবানবন্দিতে বলা হয়েছে শিমুল হত্যার পর সামাদ মিয়া তার ছেলে শিমুলকে দ্রুত মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেয়। অথচ মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে খুন হয়েছে শিমুল। অন্যদিকে আব্দুস সামাদের শিমুল নামে কোন ছেলে নেই।

 

তাছাড়া মামলায় যে ২৯ জনের স্বাক্ষী করা হয়েছে তাদের বক্তব্য একই রুপ। প্রায় প্রত্যেক স্বাক্ষীর বয়ানে বলা হয়েছে চাকরি সংক্রান্ত টাকা লেন-দেন নিয়ে সামাদ গং শিমুলকে হত্যার হুমকি দেয়। কারোর স্বহস্তে লিখিত কোন জবানবন্দি নেই। সব বয়ান টাইপ করা। অথচ সরেজমিন তদন্তে জানা যায়, টাকা লেন-দেনের বিষয়টি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে অনেক আগেই মিটে গিয়েছিল। যার ষ্টাম্পও আছে। স্বাক্ষী আবু মুছার বয়ানে যা উল্লেখ রয়েছে।

 

 

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে ১০ অক্টোবর রাত ৮ টার দিকে পারভেজ হোসাইন শিমুলকে তার মোবাইল ফোনে কে বা কারা (অজ্ঞাত) র‌্যাকেট খেলার জন্য বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কিন্তু অনেক সময় ধরে শিমুল বাড়িতে না আসলে তার মা রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফোন করলে তার মোবাইল বন্ধ পায়। পরের দিন ১১ ডিসেম্বর-২০১৮ তারিখে সকালে সরশকাটি গ্রামস্থ স্বরনপুর থেকে রাজগঞ্জ গামী পাঁকা রাস্তার পাশের্^ তার গলাকাটা ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। পরে মনিরামপুর খেদাপাড়া ফাঁড়ির পুলিশ এসে লাশ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যায়। এবং মনিরামপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয় । যার নং-১৫ তারিখ: ১১/১২/২০১৮ইং। শিমুল সরশকাটি গ্রামের আনছার সদস্য রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় কাশিমপুর বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।

 

সর্বশেষ পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে শিমুলকে বাড়ি থেকে ডাকার বিষয়ে আকাশের ফোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আকাশ এই মামলার ১ নং আসামি। অপর দিকে আব্দুস সামাদসহ তার পরিবারের অপর দুই সদস্যকে মামলায় ২,৩ ও ৪ নং আসামি করা হলেও দালালিক কোন প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্ত কর্মকর্তার দেয়া প্রতিবেদনে যাদেরকে মামলার স্বাক্ষী করা হয়েছে তাদের মধ্যে পারভীনা খাতুন এবং আবু মুছা তাদের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন শিমুলের চাচত ভাই সবুজের সুন্দরী স্ত্রী আসমিরার সাথে তার(শিমুল) পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে চরম বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায় সবুজ তার স্ত্রীকে নিয়ে শশুরবাড়ি পাশ^বর্তী মধুপুর গ্রামে গিয়ে বসবাস করতে থাকেন। স্থানীয়দের দাবি, নারী ঘটিত বিষয়টি হত্যাকান্ডের কারণ হতে পারে।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হত্যার পর শিমুলের লাশ ধুয়ে মুছে জামা পরিয়ে রেখে দেয়। সে ঘটনার রাতে যে শার্ট প্যান্ট পরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তার মরাদেহে সেই শার্ট প্যান্ট ছিল। পরে তার শার্ট খুলে দেখা যায় তার শরীরে একাধিক স্থানে ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন এবং গলা কাটা।

 

এলাকাবাসির দাবি শিমুল হত্যা মামলাটি বিগত সময় প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করতে ব্যার্থ হয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তা। তাদের মতে মামলাটি পূনঃতদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত সত্য ঘটনা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ