নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম। তিনি শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয় সমাজ গঠনেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে এ তরুন নেতা এলাকায় সর্ব মহলের ভূয়সি প্রশংসা কুড়িয়েছেন। যে কারণে ইউনিয়নবাসীর অনুরোধে ঝাঁপা ইউপি নির্বাচনে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন তিনি।
বন্যা কবলিত জনপদ উপজেলার রাজগঞ্জের ঝাঁপা গ্রাম। বছরের একটি দীর্ঘ সময়ই জলাবদ্ধতার সাথে সংগ্রাম করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় এখানকার অর্ধলাখ মানুষকে। স্বাভাবিকভাবেই দ্রারিদ্রসীমান নীচেই থাকতে হয় তাদের। এদিকে ওই গ্রামের আশপাশের গ্রামগুলোতে যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎতের ব্যবস্থা থাকলেও ঝাঁপা গ্রামের অধিকাংশ লোকজন দীর্ঘদিন যাবত এসব থেকে বঞ্চিত রয়েছে। গ্রামটির অধিকাংশ বাড়িতেই বিদ্যুৎ নাই। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সন্ধ্যা হলেই গ্রামটি একটি ভূতুড়ে গ্রামে পরিনত হয়। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে ভরী বৃষ্টি হলে কপোতাক্ষ ও ঝাঁপা বাওড়ের উপচে পড়া পানিতে তলিয়ে যায় গ্রাম নামের ওই দ্বীপটি। তাই লড়াই করেই পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে মানুষগুলো। আর এসব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্বতন্ত্র চেযারম্যান প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের আনারস প্রতীক নিয়ে ভোটারের দ্বারে দ্বারে ঝাঁপা ইউনিয়নের জনসাধারন।
সেই সাথে থেমে নেই এখানকার শিক্ষক, ইমাম গন্যমান্য ব্যক্তি ও সাবলম্বী ব্যক্তিরা। যে যেভাবে পারছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল ইসলামে আনারস প্রতীকের প্রচার চালাচ্ছেন। সমাজসেবক সিরাজুল ইসলাম পেশায় ব্যবসায়ী হলেও আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি ঝাঁপা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক আহবায়কও। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথেও জড়িত। সাদা মনের এ মানুষটি মুখোমুখি হয়েছিলেন এ প্রতিনিধি। কথা বলেছেন খোলা-মেলা। আতœমানবতার সেবায় নিজের স্বপ্ন ও কাজের কথা তুলে ধরেছেন।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম জানান, বছরের একটি দীর্ঘ সময়ই জলাবদ্ধতার সাথে সংগ্রাম করে জীবিকা নির্বাহ করতে এখানকার অর্ধলাখ মানুষকে। স্বাভাবিকভাবেই দ্রারিদ্রসীমান নীচেই থাকতে হয় তাদের। এছাড়া এ গ্রামের আশপাশের গ্রামগুলোতে যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎতের ব্যবস্থা থাকলেও ঝাঁপা গ্রামের লোকজন দীর্ঘদিন যাবত এসব থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এসকল ঘটনার জের ধরেই মানবসেবার প্রতি তার আগ্রহ জন্মায়। ফলে জনগণের অনুরোধে তিনি আসন্ন ৯ নং ঝাঁপা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সিরাজুল বলেন, ছাত্র জীবন থেকেই মানব কল্যান ও সামাজিক উন্নয়নে তিনি লড়াই শুরু করেন। সেসময় স্কুলের বন্দুদের নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল। টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে অসহায়দের পাশে যেয়ে দাঁড়ানোর সেই দিনগুলো পরবর্তীতে তাকে উদ্ধুদ্ধ করেছে আরো। এরপর স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজ জীবন তারপর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশকালে ব্যত্যয় ঘটেনি সেই ধারাবাহিকতার।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি বিমল কুমার জানান, সিরাজুল বড় মনের একজন মানুষ। সম্প্রতি তিনি ঝাঁপা দ্বিপ নামের এ গ্রামটিতে কয়েকটি মসজিদ বানিয়েছেন। সে শুধু নিজের ধর্মের ব্যাপারেই নয়, আমাদের জন্য ও অনেক কিছু করছে। স্থানীয় দুইটা মন্দিরে তারই অবদান রয়েছে সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় শিক্ষক শহীদ হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষার ব্যাপারে সিরাজুল ইসলামের আন্তরিকতার অন্ত নেই। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সে পরিচালনা পরিষদের সাথে জড়িত ছিলেন। একইভাবে একটি মাদ্রাসার সাথেও জড়িত রয়েছেন তিনি। এছাড়াও তিনি ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে এলাকার অসহায় বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন।
সিরাজুল ইসলাম জানান, উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত এ গ্রামের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের দুঃখ দুর্দশার কারণে এইচ এসসি পাশ করার পর পড়াশুনাতে বেশী দূর অগ্রসর হতে পারেননি তিনি। যে কারণে একটি আক্ষেপ থেকে গেছে সবসময়ই। আর সে আক্ষেপকে দূর করতেই এ ধরণের প্রতিষ্ঠানের সাথে তার সম্পৃক্ততাও বেশী। তিনি বলেন, শিক্ষার আলো একটি দেশের মানুষের মনের কালিমা দূর করে দিতে পারে। তাদেরকে উন্নত একটি জাতিতে পরিণত করতে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম। পেশা ব্যবসাতেও সফল তিনি। ২০ বছরের কর্মজীবনে একটি ইটভাটা ও মৎস্য ঘেরের মালিক আজ তিনি। অন্তত দু’শ শ্রমিকের জীবন-জীবিকার অবলম্বন এগুলো।
সিরাজুল ইসলাম অপরাজনীতির ঘোর বিরোধী। স্বচ্ছ রাজনীতির মধ্য দিয়ে দেশ ও জনগণের সেবা করতে চান। জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুই তার আদর্শ। তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্র ও যুব রাজনীতির গন্ডি পেরিয়ে তিনি আজ পরিণত। আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে বিগত দিনে তিনি বহুবার বি.এনপির নেতাকর্মীর হাতে লাঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া তাদের দেয়া বেশ কয়েকটি মিথ্যা মামলার এখনও ঘানি টানছেন তিনি। এরপরও থেমে থাকেনি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম। তারই একক প্রচেষ্টায় ঝাঁপা গ্রামে আওয়ামীলীগ আজ শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছে।
পিতা আব্দুর রাজ্জাক ও মাতা ভানুমতির ৫ ছেলে সন্তানের মধ্যে সিরাজুল ইসলাম চতুর্থ। তবে মানুষের দুঃখ দুর্দশা তাকে সবসময়ই তাড়া করে ফিরত। সিরাজুল আজ জনসেবার মধ্য দিয়েই তার কর্মজীবন অতিবাহিত করতে চান পরিণত হিসেবে। আর সে লক্ষ্য নিয়েই তিনি আসন্ন ঝাঁপা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে আনারস প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন।

