রাজগঞ্জ (যশোর) অফিস: মধুমাসে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারে লিচুর সমাহার ঘটেছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুস্বাদু সেই লিচুর স্বাদ নিতে ব্যস্ত ক্রেতারা। তবে এখনও ভালো মানের লিচু বাজারে আসেনি। জুনের প্রথম সপ্তাহের দিকে বাজারে পাওয়া যেতে পারে রসালো সেই লিচু। জেলার দেশি লিচুগুলো আকারে অনেক ছোট এবং রস ও অনেকটা কম। চলছে জ্যৈষ্ঠ মাস এই মাসে আম, কাঁঠাল, তাল, লিচুসহ নানান ফলের স্বাদ নিতে বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়েন ফলপ্রেমীরা। স্থানীয় লিচু ব্যবসায়ীরা আবহাওয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার অনেক আগেই লিচুর গায়ে রং এসেছে। সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং প্রচন্ড তাপদহে লিচুর আকার বেশি বড় হয়নি। বাজারে যে লিচুগুলো উঠেছে এগুলোর মধ্যে কিছু এখনও পরিপূর্ণ না হওয়ায় হালকা টক রয়েছে।
কয়েকদিন পর অবশ্য মাদ্রাজি জাতের লিচু, চায়না-৩ ও বোম্বাই জাতের লিচু বাজারে উঠা শুরু করবে।
ফল ক্রেতা ঝাঁপা গ্রামের ডা. কবির হোসেন ও মোশারফ হোসেন জানান, জ্যৈষ্ঠ মাসে ফল নেব না এটা হয় না। প্রতিবছর এই দিনটির জন্য শিশুরা অপেক্ষা করে। আত্মীয় বাড়ি গেলেই আগে খেতে দেয় গাছের সুস্বাদু মিষ্টি আম ও লিচুসহ নানান ফল। এখন আর আত্মীয় বাড়িতে যাওয়ার সময় হয়না। তাইতো বাজারের ফলই ভরসা। সব ফলই মাঝে মধ্যে
কিনি। বাজারে লিচু দেখে পরিবারের জন্য কিনলাম। একশটি লিচু ১৮০টাকা নিয়েছে। লিচুর স্বাদ হালকা মিষ্টি ও হালকা টক। রাজগঞ্জ বাজারের লিচু বিক্রেতা পলাশ হোসেন, বিশ্ব কুমার সাধু, রবিউল ইসলাম, অখিল কুমার, মিজানুর রহমান ও বিকাশ সাধু জানান, মধু মাসে বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানান ধরণের ফল। তবে দেশি লিচুর সাইজ একটু ছোট হয়ে থাকে। রস কম থাকলেও এগুলো খেতে খুব মিষ্টি। প্রচন্ড তাপদহের কারণে আগে যেসব লিচু বাজারে এসেছে
সেগুলোতে রস অনেক কম। সম্প্রতি একটু বৃষ্টি হওয়াতে এখন লিচুতে রস আছে। তবে এবার বাজারে আম, কাঁঠাল, লিচুসহ সকল প্রকার ফলের দাম অনেক কম বলে জানান এ ব্যবসায়ীরা। রাজগঞ্জ বাজারের পল্লী চিকিৎসক ডাক্তার, বিভূতি ভূষণ তরফদার বলেন, ফলের সময় শিশুদের দেশীয় ফল খাওয়ানো খুবই জরুরি। এসব ফলে তাদের
পুষ্টি অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বিদেশি ফলের চেয়ে শিশুদের প্রতি মৌসুমে দেশীয় আম,জাম,কাঁঠাল, লিচুসহ নানান ফল খাওয়ানো উচিত বলে মনে করেন এ চিকিৎসক।

