নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি গঠন নিয়ে উত্তেজনার সৃস্টি হয়েছে। সভাপতি পদ না পাওয়ায় বিক্ষুদ্ধ লোকজন মাদ্রাসার প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়।
মাদ্রাসা বোর্ডের অনুমোদন অনুযায়ী সভাপতি হন বাংলাদেশের সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তানযীমুল উম্মাহ মাদরাসা জেলা শাখার শিক্ষক আসাদুজ্জামান। কিন্তু তার ইসলামী ধারার রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বিএনপি-সমর্থিত কিছু ব্যক্তি এলাকায় বিভ্রান্তি ছড়িয়ে মাদ্রাসায় অচলাবস্থা সৃষ্টি করেন।
মাদ্রাসা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে সুপার শাহাদাত হোসেন অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিয়ে এক সভা করেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপি-সমর্থিত ফিরোজ হোসেনকে সভাপতি করার প্রস্তাব ওঠে। ফিরোজ হোসেন ঝাঁপা বাজার কমিটির কোষাধ্যক্ষ। পরবর্তীতে সুপার শাহাদাত হোসেন মাদ্রাসা বোর্ডে প্রেরিত প্যানেলে ফিরোজ হোসেনকে সভাপতি করার জন্য তালিকায় ১ নম্বরে এবং আসাদুজ্জামানকে ৩ নম্বরে রেখে প্রেরণ করেন। কিন্তু বোর্ডের চেয়ারম্যানের পক্ষে রেজিস্ট্রার ছালেহ আহমাদ আসাদুজ্জামানকে সভাপতি করে কমিটির অনুমোদন দেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল ৯টার দিকে এলাকার কিছু লোকজন গিয়ে মাদ্রাসার প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় তারা সুপারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
বিএনপি-সমর্থিত সাবেক ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, “আমরা মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচনে মতামত দিয়েছিলাম, কিন্তু তা মানা হয়নি। জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করা হয়েছে।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক ফজিলা খাতুন, সহ-সুপার আব্দুস সবুর ও শিক্ষক আজিজুর রহমান।
ঘটনার সময় সুপার শাহাদাত হোসেন মাদ্রাসায় ছিলেন না। পরে দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রশীদ এবং একাডেমিক সুপারভাইজার মাসুদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে দেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সুপার শাহাদাত হোসেন বলেন, “মাদ্রাসা বোর্ডই আসাদুজ্জামানকে সভাপতি করেছে। আমি কেবল বোর্ডের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছি।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রশীদ বলেন, “তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে কমিটি পরিবর্তনের বিষয়টি সময়সাপেক্ষ।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না জানান, “মাদ্রাসার অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, শিক্ষা কার্যক্রম যেন কোনো রাজনৈতিক কারণে ব্যাহত না হয়।”
এদিকে আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি রাজনীতি নয়, শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি। আমাকে নিয়ে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

