নিজস্ব প্রতিবেদক :জাতীয় মহিলা সংস্থা, মনিরামপুর উপজেলা কার্যালয়ের ৭৩তম ব্যাচের (নভেম্বর ২০২৫–ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি:) চার মাস মেয়াদি সেলাই ও এমব্রয়ডারি প্রশিক্ষণার্থীদের বাছাইকৃত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।গত ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ বকুল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাঃ আলমগীর হোসেন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত তালিকাটি জাতীয় মহিলা সংস্থার নোটিশ বোর্ডে টানানো হয়।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বকুল হোসেনের বরাতে জানা যায়, মোট ১৫০ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৮০ জন আবেদনপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই পর্বে ৭৪ জন উপস্থিত ছিলেন এবং ৬ জন অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে ৩০ জনকে মেধা তালিকায় ও ৪ জনকে অপেক্ষমান তালিকায় রাখা হয়।
তবে প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা জানান, প্রকৃত মেধাভিত্তিক তালিকা প্রণয়নের পরিবর্তে ‘লবিং’ ও ‘টাকার বিনিময়ে’ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
কামিনি ও অঞ্জনা নামের দুই আবেদনকারী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা যাচাই-বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ হয়েছি, কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসেনি। পরে জানতে পারি, টাকার বিনিময়ে ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
”স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বকুল হোসেন ও এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমান তালিকা প্রণয়নে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সুপারিশ ও ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বকুল হোসেন বলেন,“যাদের নাম আসেনি, তারা তো অভিযোগ করবেই।
নিয়ম মেনেই যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।”তবে যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত কাগজপত্র ও আবেদন ফরম দেখাতে অনুরোধ করলে তিনি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।
এছাড়া তিনি বলেন, এসিল্যান্ড স্যার চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করেছেন এবং ‘নামাজের সময় হয়েছে’ বলে স্থান ত্যাগ করেন।
যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহা. আলমগীর হোসেন বলেন,“যাচাই-বাছাইয়ের সময় এসিল্যান্ড উপস্থিত ছিলেন না। পরে তিনি নিজে যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা করেন।
কিছু নাম বাদ গেছে, আবার কিছু নতুন যুক্ত হয়েছে। তখন অভিযোগ জানালে ব্যবস্থা নেওয়া যেত, এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।”এবিষয়ে এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর প্রদান করেননি।

