শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মনিরামপুরে বিতর্কিত ২ কর্মচারীর দপ্তর বদল,মিস মামলা নিস্পত্তির অগ্রগতি

আরো খবর

 নিজস্ব প্রতিবেদক :যশোরের মনিরামপুর উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে মিস মামলার জট ও ঘুষের অভিযোগে সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ ওঠে—প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক ইউসুফ আলী এবং নৈশ প্রহরী আসাদুজ্জামান জোট বেঁধে প্রতিটি মিস মামলার আবেদন এন্ট্রি করতে ঘুষ নিতেন। ঘুষ না দিলে আবেদন গ্রহণই করা হতো না। এতে শত শত আবেদন টেবিলে জমে থেকে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ মিস মামলার জট।
বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সদ্য যোগদানকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদুর রহমান তদন্তে নামেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তিনি দুই কর্মচারীর দায়িত্ব রদবদলসহ বেশ কয়েকটি কার্যকর উদ্যোগ নেন। এর পর থেকেই জমে থাকা জট খুলতে শুরু করেছে। এসিল্যান্ড আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন—সহস্রাধিক পুরনো মিস মামলা দুই মাসের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার জমির নামপত্তন এবং বিভিন্ন সংশোধনী সংক্রান্ত মিস মামলা নিষ্পত্তি হয় উপজেলা ভূমি অফিসে। নিয়মমতো আবেদন জমা দেওয়ার জন্য ২০ টাকার কোর্ট ফিসের স্ট্যাম্প লাগিয়ে অফিসে জমা দিতে হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে—ইউসুফ আলী ও নৈশ প্রহরী আসাদুজ্জামান প্রতি আবেদনে এক হাজার টাকা ঘুষ দাবি করতেন।
টুনিয়াঘরা গ্রামের কৃষক আবদুর রাজ্জাক মোড়ল জানান, তিনি ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর নামপত্তনের ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করেন। ঘুষ না দেওয়ায় তার আবেদনটি ইউসুফ আলী এন্ট্রি না করে টেবিলেই ফেলে রাখেন। একই অভিযোগ হানুয়ার গ্রামের কৃষক হৃদয় হোসেনেরও। মাত্র একটি নাম সংশোধনের আবেদন করেও তিনি মাসের পর মাস ঘুরেছেন, কিন্তু তার আবেদনও এন্ট্রি হয়নি।
এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমান জানান, অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ১২ নভেম্বর ইউসুফ আলী ও আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সহকারী আলমগীর হোসেন ও মহাসিনা খাতুন তন্বিকে। তিনি বলেন,
“পুরনো সব মিস মামলা অগ্রাধিকার দিয়ে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। প্রতি বুধবার বিশেষ শুনানি চলছে। ইতোমধ্যে ২০০টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলোও দুই মাসের মধ্যেই শেষ হবে।”
উল্লেখ্য মাস খানিক আগে দৈনিক প্রজন্ম একাত্তর পত্রিকায় নৈশ প্রহরী আসাদুজ্জামান এর ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এসিল্যান্ডের নান্দনিক ও কঠোর উদ্যোগে ভূমি অফিসে সেবা পেতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিনের জট খুলতে শুরু করায় সেবাগ্রহীতাদের মনে স্বস্তি ফিরেছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ