শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মনিরামপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীর ময়না তদন্তে ধর্ষণের আলামত,মামলার নতুন মোড়  

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক :যশোরের মনিরামপুরে রুটি চুরির অপবাদে মারধরের পর নিখোঁজ হওয়া মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু রহস্য নতুন মোড় নিয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে, এবং তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে।
স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, ওই দিন (৯ সেপ্টেম্বর) রোহিতা বাজারসংলগ্ন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের পুকুর থেকে স্থানীয়রা কিশোরীর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেন। পুকুরটি নির্জন এলাকায় অবস্থিত এবং তার পাশেই ঘন বাগান রয়েছে। এলাকাবাসীর ধারণা, গোসল শেষে ওই বাগান পার হওয়ার সময় কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। নিহত কিশোরী রোহিতা বাজার এলাকার আইনুল হকের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এর আগের দিন সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রামের এক দোকান থেকে পাউরুটি নেওয়ার অভিযোগে দোকানদারের হাতে মারধরের শিকার হয় কিশোরী। পরে তার মা-ও জুতাপেটা করেন। এর পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। প্রথমে গ্রামে গুজব ছড়ায় যে, অপমানে সে আত্মহত্যা করেছে বা গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে। কিন্তু ময়না তদন্তে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত মেলায় ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নেয়।
ঘটনার পর শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) কিশরীর মা মোছা শাহিনুর আক্তার বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন । সন্দেহভাজন হিসেবে সোহাগ হোসেন (১৮) নামের এক কলেজছাত্রকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তিনি জয়পুর গ্রামের এখলাস উদ্দীনের ছেলে এবং রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, “মাদ্রাসাছাত্রীর লাশের ময়না তদন্তে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। মামলা হয়েছে, এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ