শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মনিরামপুরে সাপের কামড়ে ভাইয়ের মৃত্যু, বোন গুরুতর

আরো খবর

মণিরামপুর প্রতিনিধি :যশোরের মনিরামপুরে বিষধর সাপের কামড়ে আজিম হোসেন (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তার বোন হালিমা খাতুন (৯) যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার বাঁধাঘাটা এলাকায়। দুই সন্তানকে নিয়ে তাদের মা তানজিলা খাতুন ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ভাইবোনকে সাপে দংশন করলে তারা চিৎকার দিয়ে জেগে ওঠে। স্থানীয়রা সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেললেও শেষ রক্ষা হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, সাপে কাটার পর শিশু দুটিকে নিয়ে তানজিলা খাতুন মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। কিন্তু সেখানে জরুরি বিভাগে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা কর্মী পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে তিনি সন্তানদের স্থানীয় কবিরাজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ছোট ছেলে আজিমের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত হালিমাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিশুদের মা তানজিলা খাতুন অভিযোগ করে বলেন,“হাসপাতালে গেলে দেখি জরুরি বিভাগ ফাঁকা। ডাক্তার-নার্স কেউই নেই। যদি তখন সঠিক চিকিৎসা পেতাম, আমার ছেলেটা হয়তো বেঁচে যেত।”
মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক অনুপ বসু বলেন,সাপের কামড়ে দুই শিশুর হতাহতের কথা শুনেছি। রাতে তাদের স্বজনদের কেউ এই হাসপাতালে আনেনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের কামড়ে আহত রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন থাকে না। আমরা যশোর জেনারেল হাসপাতালে যোগাযোগ করে এক ডোজ ইনজেকশন আনিয়ে রেখেছি। যা দুইজন সাপে কাটা রোগীকে দেওয়া যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জন ডা. ফাইয়াজ আহমদ ফয়সালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তিনি মোবাইল বন্ধ করে দেন।
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না বলেন,ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। হাসপাতালে রাতের বেলায় জরুরি বিভাগে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী না থাকা এবং অ্যান্টিভেনম সংকটের বিষয়ে সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে পৌরসভা থেকে সাপের কামড়ের চিকিৎসায় ওষুধ কেনার জন্য ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সবসময়ই চিকিৎসা সংকট বিরাজ করে। বিশেষ করে রাতে জরুরি বিভাগ প্রায় ফাঁকা থাকে। এ কারণে অনেক রোগীকে অবহেলায় মৃত্যুর মুখে পড়তে হচ্ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ