শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত:জন্মবার্ষিকী উৎসবমুখর হলেও মৃত্যুবার্ষিকীর খোঁজ রাখে না কেউ

আরো খবর

  কেশবপুর ‌ প্রতিনিধি :
বাংলা সাহিত্যের অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জন্মভিটা কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে তেমন কোন আয়োজন এর দেখা মিলিনি। শুধু এবার নয় কোন বছরই মৃত্যুবার্ষিকী পালন সেভাবে হয় না।
স্থানীয় প্রশাসনে জন্মবার্ষিকী পালনে থাকে না কোন ভূমিকা। স্থানীয়রা বলে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রশাসন খা ঘুম থাকে না কিন্তু মৃত্যুবার্ষিকী পালনে প্রশাসনের কোন ভূমিকা থাকে না। মৃত্যুবার্ষিকী কিভাবে চলে যাই কেউ জানে না অথচ জন্মবার্ষিকী ৭ দিনব্যাপী উৎসব মুখে আয়োজন করা হয়।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা খাতুন বলেন মৃত্যুবার্ষিকী পালনের বিষয়টি আগামী বছর থেকে উপজেলা প্রশাসনিক উদ্যোগে পালন করা যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কেশবপুর শাখার পৃষ্ঠপোষকতায় মধুসূদন একাডেমির ও সাগরদাঁড়ী প্রেসক্লাবে পক্ষ থেকে মধুসূদনের আবক্ষে পুস্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি, মধুগীতি পরিবেশনসহ ড. সুকুমার রায় স্মৃতিবৃত্তি প্রদান করা হবে।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতার আলিপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কেশবপুরের কপোতাক্ষ নদ পারের সাগরদাঁড়ি গ্রামে ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি জমিদার বাবা রাজনারায়ন দত্ত ও মা জাহ্নবী দেবীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৫৩ সালে তিনি খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করলে তখন থেকে তাঁর নামের সঙ্গে ‘মাইকেল’ যুক্ত হয়। তিনি ‘পদ্মাবতী’ নাটক, ‘একেই বলে সভ্যতা’ ও ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নামের দু’টি প্রহসন, ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, ‘ব্রজাঙ্গনাকাব্য’, ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটক, ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ ও ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যে গাম্ভীর্যপূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক তিনি।
মধুসূদন একাডেমি প্রতি বছর সাগরদাঁড়িতে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে আসছে।
এ ব্যাপারে মধুসূদন একাডেমির পরিচালক কবি ও মধুসূদন গবেষক খসরু পারভেজ বলেন, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মধুসূদন একাডেমির উদ্যোগে সাগরদাঁড়িতে কবির আবক্ষে পুস্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি, মধুগীতি পরিবেশনসহ ড. সুকুমার রায় স্মৃতিবৃত্তি প্রদান করা হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ