শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মহেশপুরের ভোলাডাঙ্গা খাল ও বাজার উন্নয়নে চেয়ারম্যানের নান্দনিক উদ্যোগ

আরো খবর

মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি:অবশেষে উন্নয়ন হলো ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ভোলাডাঙ্গা গ্রামের। বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা জিন্টু সরকারী অনুদান না পেয়ে নিজের অর্থায়নে ভোলাডাঙ্গা বাজারে মাটি ভরাটসহ চারটি রাস্তা, ভোলাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাট, ঈদ গায়ের মাঠে মাটি ভরাটসহ রাস্তা নির্মান ও ভোলাডাঙ্গা বাজারের নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া কোদলা নদী খনন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। হিন্দু সম্পদায়ের শেষ ঠিকানা অবহেলিত শ্মশান ঘাটের রাস্তাটি তিনি উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে নির্মান করে দিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, এলাকার এম,পি,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ভোলাডাঙ্গা বাজারের মাটি ভরাট,রাস্তা নির্মান ও স্কুলের মাঠে পানি জমার কারনে শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য স্কুল মাঠের মাটি ভরাট ও হিন্দু সম্পদায়ের শেষ ঠিকানা শ্মশান ঘাটের রাস্তাটি নির্মানের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বাজার উন্নয়নের কমিটিসহ গ্রামবাসীরা এ সব দপ্তরে আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি।
বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা জিন্টু নিজ খরজে ভোলাডাঙ্গা বাজারের নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া কোদলা নদীটি খনন করে দিয়েছেন। পরে তিনি কোন প্রকল্প দিয়েছেন কি না তা আমার জানান নেই। তবে তিনি ভোলাডাঙ্গা গ্রামে নিজ খরচে বেশ কয়েকটি কাজ করেছেন।
ভোলাডাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ী ডাক্তার অশোর কুমার জানান, দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫২ বছর। কত এম,পি,চেয়ারম্যান,জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চলে গেলো কিন্তু ভোলাডাঙ্গা গ্রামসহ বাজারের কথা কেউ ভাবলোনা। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন রাস্তা না থাকার কারনে আমার বাবার লাশ খাটিয়ায় করে পুকুরের ধার দিয়ে শ্মশান ঘাটে নিয়ে যাওয়া সময় আমার বাবার লাশটা পুকুরের পানিতে পরে যায়।

তার পরও আমাদের গ্রামের একমাত্র শ্মশান ঘাটের রাস্তাটির জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ধন্না দিয়েছি কিন্তু কোন লাভ হয়নি। শেষ মেশ এলাকার চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা জিন্টু নিজ উদ্যোগে পরিষদ থেকে বাজেট নিয়ে আমাদের শ্মশান ঘাটের রাস্তাটি নির্মান করে দিয়েছেন।
ভোলাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাতাব উদ্দীন জানান, আমি এ খানে যোগদানের পর থেকেই দেখেছি স্কুল মাঠটি সব সময় কাদা-পানিতে ডুবে থাকতো। সে কারনেই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের আশা যাওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে আসছিলো। আমি উপজেলা চেয়ারম্যান,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছেও স্কুল মাঠের চিত্র তুলে ধরে মাঠটি ভরাটের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু কোন লাভ হয়নি।
তিনি আরো বলেন, শেষ মেশ বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা জিন্টু ভোলাডাঙ্গা বাজার ঘুরতে আসলে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা সকলেই গিয়ে আমরা তার কাছে আমারদের কষ্টের কথা গুলো বলার পর তিনি নিজ অর্থা স্কুলের মাঠে মাটি ভরাট করে খেলার মাছ তৈরী করে দিয়েছেন।
ভোলাডাঙ্গা বাজার কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মালিতা, আমাদের বাজারের কি অবস্থা ছিলো তা বলার মত না। একটু পানি হলেই কাদার জন্য আর কেউ দোকারদারী করতে পারতো না। এবার চেয়ারম্যান জিন্টু আমাদের বাজারের অলি গলি সব বালি দিয়ে ভরাট করে ইটের রাস্তা করে দিয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেরুননেছা জানান, চেয়ারম্যান জিন্টু আমাদের কাছ থেকে প্রকল্পের অর্থ দিয়ে ভোলাডাঙ্গা গ্রামের শ্মশান ঘাটের রাস্তাটি করেছেন। আর বাকি রাস্তা বা মাটি ভরাট কাজ গুলো চেয়ারম্যান নিজের অর্থ দিয়ে করেছেন বলে শুনেছি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ