আব্দুল কুদ্দুস, মহেশপুর (ঝিনাইদহ):
ঝিনাইদহের মহেশপুরে এখন ভোরের বাতাসে ভেসে আসে এক ধরনের মিষ্টি ঘ্রাণ। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে রাস্তার ধারে, পুকুরপাড় কিংবা বিস্তির্ণ বাগান সব খানেই আম গাছের ডালে ডালে মুকুলের ছড়াছড়ি। মধু মাসের আগমনী বার্তা নিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের এই বার্তাবাহক যেন জানিয়ে দিচ্ছে আর ক’মাস পরেই পাকা আমে রঙিন হবে চারদিক।
সকালের নরম রোদে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, গাছের প্রতিটি ডাল যেন হলদে-সবুজ মুকুলে মোড়া। কোথাও কোথাও গাছের পাতা দেখা দায়। বাতাসে মিশে থাকা সেই মুকুলের ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে চারপাশ। স্থানীয়রা বলছেন, এমন সুবাস মানেই ভালো ফলনের ইঙ্গিত।
বাংলা সাহিত্যে গ্রামবাংলার আমের কথা এলেই মনে পড়ে জসীম উদ্দিন-এর কবিতা। তাঁর ‘মামার বাড়ি’ কবিতার লাইন—‘ঝড়ের দিনে মামার দেশে / আম কুড়াতে সুখ’ এ সময়টায় যেন নতুন করে প্রাণ পায়। মহেশপুরের গ্রাম গুলোতেও এখন সেই প্রত্যাশা ঝড় নয়, বরং অনুকূল আবহাওয়ায় ভরে উঠুক আমের ডাল। এক সময় রাজশাহী অঞ্চলের নামই ছিল আমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে সাম্প্রতিক বছর গুলোতে ঝিনাইদহ জেলাও ‘আমের দ্বিতীয় রাজ্য’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে স্থানীয়দের মুখে মুখে। বিশেষ করে মহেশপুর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে বাণিজ্যিক আমচাষ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন বাগান। বড় গাছের তুলনায় ছোট ও মাঝারি গাছে এ বছর তুলনামূলক বেশি মুকুল এসেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। হিমসাগর, আম্্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া ও ফজলিসহ বিভিন্ন জাতের গাছে ইতিমধ্যে মুকুল দেখা দিয়েছে। পুরোপুরি ফুটতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।
মুকুল আসার পর থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বাগান মালিকেরা। ভোর থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত গাছে গাছে চলছে পরিচর্যা। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউবা সেচ দিচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে রোগবালাই প্রতিরোধে।
বাগান মালিকদের ভাষ্য, মুকুলের সময়টিই সবচেয়ে স্পর্শকাতর। এ সময় ছত্রাক বা পোকার আক্রমণ হলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। তাই স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করা হচ্ছে।
মহেশপুরের বাগান মালিক স্বপন হোসেন বলেন, মুকুল দেখে মন ভরে যায়। গাছভর্তি মুকুল মানেই স্বপ্ন। এখন শুধু চাই আবহাওয়া ভালো থাকুক।
মধুমাসের পূর্ণ স্বাদ পেতে এখনো কয়েক মাস বাকি। তবে তার আগেই মুকুলের ঘ্রাণে রঙিন হয়ে উঠেছে মহেশপুর। বসন্তের এই সুবাস যেন আগাম সুখের বার্তা ডালে ডালে ঝুলবে রসাল আম, আর সেই আম ঘিরেই ঘুরবে গ্রাম বাংলার অর্থনীতিও।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, মহেশপুরে বাণিজ্যিকভাবে আমচাষের পরিধি বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৬ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল ধরা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়ার দিকে চেয়ে চাষিরা
আমের ফলন অনেকাংশেই নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর। অতিরিক্ত কুয়াশা, বৃষ্টি কিংবা শিলাবৃষ্টি হলে মুকুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আকাশের দিকে তাকিয়েই দিন গুনছেন চাষিরা। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশাবাদী সবাই।

