শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মহেশপুরে নিখোঁজ মায়ার জমির উপর উঠছে বহুতল ভবন

আরো খবর

মহেশপুর প্রতিনিধি:
২৩ বছর নিখোঁজ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের ময়না খাতুন ওরফে মায়া যাদবপুর গ্রামের সামছুল হক তালুকদারের মেয়ে। দীর্ঘ ২৩ বছর নিখোঁজ থাকার পরও ২০২৩ সালের ২১ আগষ্ট ময়না খাতুন ওরফে মায়ার নামে থাকা ৮৩ নং যাদবপুর মৌজার ৩৪২৮ নং-দাগের ৩.৬৮ শতক জমি যাদবপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে আলোচিত ব্যবসায়ী সাহেব আলী ৬৬৯০ নং দলিলে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে রেজিষ্ট্রি করেছেন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন যে ময়না খাতুন ২৩ বছর নিখোঁজ সে কিভাবে দলিল রেজিষ্ট্রি করলো।
এলাকার অনেক অপকর্মের হোতা ও সুদে ব্যবসায়ী সাহেব আলী মহেশপুর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রকিব উদ্দীনের (১১৭) যোগ সাজসে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দলিলটি রেজিষ্ট্রি করেছেন বলে একটি সুত্রে জানাগেছে।
সাহেব আলী জমিটি রেজিষ্ট্রি করেই ঐ জমির উপর একটি বহুতল ভবন নির্মান কাজ শুরু করেন। যা বর্তমানে এলাকার লোকজন বন্ধ করে দিয়েছেন।

নিখোঁজ ময়না খাতুন ওরফে মায়ার বড় ভাই ইনছুব আলী খোকন জানান, আমার ছোট বোন ২৩ বছর যাবত নিখোঁজ। সে কিভাবে সাহেব আলীর কাছে জমি বিক্রয় করে। তিনি আরো জানান, সাহেব আলী আমার বোনকে আমাদের সামনে এনে দিক তাহলে আমরা বুঝবো সে জমি বিক্রি করেছে।
ময়না খাতুন ওরফে মায়ার মা ফজিলা খাতুন জানান, যে মেয়ে ২৩ বছর নিখোঁজ, সে মেয়ে জমি রেজিষ্ট্রি যদি করতেই আসে তাহলে সে মেয়ে আমার সাথে দেখা করতে আসতো। তিনি আরো জানান, “সাহেব আলী একজন সন্ত্রাসী”। “সে আমার মেয়েকে মেরে ফেলে তার জমি জাল দলিল করে নিজের নামে লিখে নিয়েছে”।

মহেশপুর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রকিব উদ্দীন জানান, দলিলটি আমার না দলিলটি মুলত রফিকুল ইসলামের। সে আমার দিয়ে সহি করে নিয়েছে। যেহেতু আমরা একই ঘরে কাজ করি, আর সে কারনেই আমি ঐ দলিলে সহি করেছি।

৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোনা মিয়া জানান, আমরা বিষয়টি জানার পর সাহেব আলীকে ডেকে ছিলাম কিন্তু সে আসেনি। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থানায় জমির কাগজপত্র নিয়ে যেতে বললেও সে সেখানে যায়নি। ময়নাকে ১৫ দিনের মধ্যে আমাদের কাছে হাজির করার কথা বললেও নিয়ে আসতে পারেনি।

কৃষ্ণপুর গ্রামের সাহেব আলী জানান, আমি ময়না খাতুন ওরফে মায়ার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ৩.৬৮ শতক জমি কিনেছি। আর দলিল রেজিষ্ট্রি করার সময় সেখানে ময়না খাতুনসহ তার সন্তানরাও উপস্থিত ছিলো। ময়না খাতুন বর্তমানে ভারতে থাকেন বলেও জানান জমি ক্রেতা সাহেব আলী। আমি কোন জাল দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করিনি।
যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডাঃ সালাউদ্দীন জানান, মেয়েটি নিখোঁজ আছে কিনা আমার জানানেই। আর মেয়েটার জমি বিক্রি করেছে কিনা তাও আমার জানা নেই। তার পরও আমি বিষয়টা খোজ খবর নিয়ে দেখব।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ