ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের খোসালনগর গ্রামে দুই খন্ড জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এব্যাপারে আদালতে চরমান মামলা নিস্পত্তি হওয়ার আগেই জমি জবর দখর, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকানা দাবি করছেন শ্রীমতি রাধারাণী বিশ্বাস (পিতা—মৃত যতীন্দ্রনাথ বিশ্বাস)। অপরদিকে বিবাদী মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীরা জমিটি নিজেদের বলে দাবি করছেন।
ভুক্তভোগী শ্রীমতি রাধারাণী জানান, তার পিতা যতীন্দ্রনাথ বিশ্বাস ২০০০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে ২০০৪ সালে দুইজন হাইকমিশনারের প্রতিনিধি—বৈদ্যনাথ বিশ্বাস ও ধীরেন বাবু—সাত গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাকে ওই জমির ভোগদখলের সুযোগ করে দেন।

রাধারাণীর অভিযোগ, ২০১৭ সালে বিবাদী মিজানুর রহমান জমির পর্চা সংশোধনের উদ্যোগ নেন এবং ২০২১ সালে তা সম্পন্ন হয়। এ সময় একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও বিবাদীপক্ষ জমির দখল ছাড়েননি। পরে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং ঝিকরগাছা ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন করলেও তা মঞ্জুর হয়নি। পরবর্তীতে তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আবেদন করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, মিজানুর রহমান, মুসলিম গাজী ও নুরুজ্জামান ওই আদেশ অমান্য করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আওয়মী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৫ সালে ১ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিবাদীপক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি সোঠা নিয়ে তার জমিতে প্রবেশ করে ধঞ্চি গাছ কেটে ফেলে। এতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। ঘটনার সময় তিনি ও তার ভাই ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয়ে কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয় এবং সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মামলা-মোকদ্দমা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।তিনি আরও জানান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করলেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
অপরদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বিবাদী মিজানুর রহমান বলেন,
“জমির মূল বিষয় হলো বৈধ কাগজপত্র। আমাদের নিজস্ব দলিল ও পর্চা রয়েছে। আমরা গত ১৬/১৭ বছর ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছি। বাদীর সঙ্গে একাধিকবার বসা হয়েছে। তিনি মিথ্যা অভিযোগ করছেন। তিনি যদি বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন, তাহলে আমরা জমি বুঝিয়ে দিতে প্রস্তুত।
মিজানুর রহমান ১৬/১৭ বছর ধরে জমিটি ভোগদখল করছে বলে দাবি করলেও সরেজমিনে তার সত্যতা মেলেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, জমিটি হাইকোর্টের রায়ভুক্ত সম্পত্তি এবং গত বছরের ১ অক্টোবর দুর্গাপূজার সময় বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক দখল নেয়। অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ২০০০ সাল থেকে রাধারাণী জমিটি ভোগদখলে থাকলেও গত বছরের দুর্গাপূজার সময় মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীরা দখল নেন।
এ বিষয়ে বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিস-উর-রহমান বলেন, “এই বিনিময় সম্পত্তি সম্পর্কে আমি বিস্তারিত জানি না। যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। উভয় পক্ষই জমির মালিকানা দাবি করছে।”
এবিষয়ে বাঁকড়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আয়ুব হোসেন জানান, রাধারাণীর নামে ১৯৯০ সালের রেকর্ড থাকলেও বিবাদীপক্ষের নামে পরবর্তীতে রেকর্ড ও নামপত্তন হয়েছে। নামপত্তন বাতিলের জন্য আবেদন করতে বলা হলে তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আবেদন করেন। এ বিষয়ে তারা রাধারাণীর পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছেন। তবে বিবাদীপক্ষ এসিল্যান্ড অফিসকে জানিয়েছে, জমিটি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান। মামলা নিষ্পত্তি হলে নামপত্তন বাতিল করে পুনরায় নামপত্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শ্রীমতি রাধারাণী বলেন,“আমি একজন অসহায় নারী। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী সমাধান চাই।”

