শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মুক্ত বাংলায় বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রথম জনসভা স্মরণ

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্ত বাংলায় বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রথম জনসভা স্মরণে গতকাল সন্ধায় যশোর টাউন হল মাঠে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবারাউল হাছান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মণি, পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যশোর ইন্সটিটিউটের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ লিটু, শিল্পকলা একাডেমির সহ-সহসভাপতি সাংবাদিক ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল,ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাকি সাজেদ রহমান প্রমুখ।

সভায় বক্তরা ঐতিহাসিক ১১ ডিসেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন,বাঙালি জাতির জীবনের স্মরণীয় একটি দিন ১১ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবলমুক্ত বাংলার মাটিতে প্রথম যশোর টাউন হল ময়দানে বিজয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যশোরে এই গৌরব উজ্জল ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে দেয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পরে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

১১ পিসেম্বরের ইতিহাস তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্ত বাংলার প্রথম জনসভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, ফণীভূষণ মজুমদার, সোহরাব হোসেন, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম, চরমপত্র পাঠক এমআর আকতার মুকুল, চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান, অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম প্রমুখ।

সেদিনের সমাবেশে প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ওই সমাবেশ থেকে তিনি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সমবেত জনতার উদ্দেশে বলেছিলেন, আর ধ্বংস নয়, যুদ্ধ নয়। এই মুহূর্তে কাজ হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। তিনি সর্বস্তরের মানুষকে স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনায় দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সমাবেশ থেকে যশোরের তৎকালীন ডিসি ওয়ালি উল ইসলাম এবং কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাঞ্চন ঘোষালকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলায় যেন অবনতি না ঘটে।”

 

সেদিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তবিবুর রহমান সরদার, শাহ্ হাদিউজ্জামান, যুদ্ধকালীন বৃহত্তর যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা খান টিপু সুলতান, বীর মুক্তিযোদ্ধা খুরশিদ আনোয়ার বাবলু (বর্তমানে আমেরিকাপ্রবাসী), প্রবাসী সরকারের ফটোগ্রাফার আব্দুল হামিদ রায়হান, ফটোগ্রাফার মুক্তিযোদ্ধা মো.শফি প্রমুখ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ