যশোর:যশোরের অভয়নগরের আক্তারুজ্জামান নামে এক কয়লা ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং ব্যাংকের চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে সাক্ষর করে নেয়ার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
এই ঘটনায় আক্তারুজ্জামান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।
আটক আসামিরা হলো, যশোর সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের ইয়াসিন আরাফাত , কামাল হোসেন হিরা , সাইদুর রহমান সাঈদ ও সোবাহান আলী ।
পলাতক আসামিরা হলো, কিসমত নওয়াপাড়ার তৌশিকুল ইসলাম তানিম , তালবাড়িয়া গ্রামের কামরুল , কুদ্দুস , শিপন, মুন্না এবং একই এলাকার আব্দুল্লাহ ।
অভয়নগর উপজেলার হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা আক্তারুজ্জামান মামলায় উল্লেখ করেন, তার নওয়াপাড়া এলাকায় কয়লার দোকান আছে। আসামি ইয়াসিন আরাফাত তার পূর্ব পরিচিত। তিনি তার কাছ থেকে কয়লা নিয়ে বিভিন্ন ইটের ভাটায় বিক্রি করতেন। এই ব্যবসা করতে গিয়ে তিনি ইয়াছিনের কাছে ২০ লাখ টাকা পেতেন। বুধবার আসামি তৌশিকুল ইসলাম তানিম মোবাইল ফোনে কয়লা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা আছে বলে যশোরে আসতে বলে। তিনি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপশহর এলাকায় আসলে আসামিরা একটি প্রাইভেটকারে তাকে উঠতে বলে। তিনি উঠতে না চাইলে আসামিরা তাকে জোর করে প্রাইভেটকারে উঠায় এবং তালবাড়িয়া গ্রামের আসামি কামাল হোসেন হিরার ঘেরে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাকে আটকে রেখে মারপিট করে। এরপর তার মাথায় পিস্তল ও চাকু ঠেকিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বলে। তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে বেধড়ক মারপিটে জখম করে। তার কাছে থাকা ৪৬ হাজার এবং বিকাশের মাধ্যমে আরো ২০ হাজার টাকা নেয়। পরে আগ্রণী ব্যাংকের তিনটি চেকে ১১ লাখ টাকা লিখে সেখানে সাক্ষর করিয়ে নেয়। এছাড়া তিনটি সাদা স্ট্যাম্পের জোর করে সাক্ষর করিয়ে দেয়। এরপর ইয়াছিনের দেয়া ২০ লাখ টাকার ডিজঅনার হওয়া চেকটি নিয়ে আসতে বলে। তিনি অভয়নগরের একতারপুর গ্রামের রাজ ফারাজি নামে একজনের মাধ্যমে চেকটি নিয়ে আসেন এবং তাদের হাতে তুলে দেন। এরপর এই বিষয়ে কাউকে জানালে প্রাণে শেষ করে দেবে বলে হুমকি দেয়। এঘটনার পরই পুলিশকে বিষয়টি জানায় কামরুজ্জামান। পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে আটক করে। অন্যরা পালিয়ে যায়।
এসময় জোর করে সাক্ষর করে নেওয়া তিনটি চেক ও সাদা স্ট্যাম্প উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বুধবার রাতে তিনি কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।
তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই একরামুল হুদা জানিয়েছেন, আটক চার আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম ইয়াসিন আরাফাত বাদে বাকি তিনজনের জামিন মঞ্জুর করেন।
যশোর অভয়নগরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, আটক চার

