একাত্তর ডেস্ক:পঞ্জিকার পাতায় মার্চের ২৫ তারিখ, সাল ১৯৭১। সেদিন রাতের আঁধার সাক্ষী হয়েছিল নারকীয় এক হত্যাযজ্ঞের। নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর নির্মমভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
এই হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা করা হয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে। সিদ্ধান্ত হয়, সামরিক এই অভিযানের নেতৃত্ব দেবেন রাও ফরমান আলী ও খাদিম রাজা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ১০টার দিকে ঢাকা সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর একটি বড় কনভয় যুদ্ধ সাজে শহরের দিকে রওনা হয়।
তারা প্রথম বাধার মুখে পড়ে ফার্মগেট এলাকায়। সাধারণ মানুষ সড়কে গাছের গুঁড়ি, ভাঙা গাড়ি ও স্টিম রোলার ফেলে রাস্তা বন্ধ করে দেয়।
কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনী সেই রাতে হয়ে উঠল মৃত্যুদূত। তারা হামলা করে পিলখানা ইপিআর, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাঁখারী বাজারসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়।
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা, এবং বস্তিবাসীর ওপর নজিরবিহীন নৃশংসতা চালানো হয়।
অভিযান পরিচালনার সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ফলে রাতের অন্ধকারে গুলি, বোমা আর ট্যাংকের আওয়াজে নরকে পরিণত হয় গোটা শহর।
রাত ১টার পর পাকিস্তানের সেনারা ট্যাংক আর সাঁজোয়া যান নিয়ে ধানম-ির বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে বাঙালি জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান।
এরপর শুরু হয় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে বাঙালি পুলিশ, আনসার ও সাধারণ মানুষের এক অসম লড়াই। মুক্তির জন্য এই যুদ্ধে জাতির অসামান্য ত্যাগের বিনিময়ে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় সাংবাদিক সায়মন ড্রিংয়ের করা প্রতিবেদনে বলা হয়, “আল্লাহর নামে আর অখ- পাকিস্তান রক্ষার অজুহাতে ঢাকা আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত এক সন্ত্রস্ত নগর।
“পাকিস্তানি বাহিনীর নিষ্ঠুর ও ঠা-ামাথায় গোলাবর্ষণের ২৪ ঘণ্টা পর, অন্তত ৭ হাজার মানুষ মৃত, বিশাল এলাকা মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার সংগ্রামকে নৃশংসভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
একাত্তরে ভয়াবহ সেই নৃশংসতায় শহীদদের স্মরণে ২০১৭ সাল থেকে কালরাতকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করছে বাংলাদেশ। দিবসটি যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
যশোর: যশোরে যথাযোগ্য মর্যদার মধ্যদিয়ে ২৫ মার্চ ভয়াল গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার দিবসটিতে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আলোচনা সভা শেষে রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে ২৫ মার্চ সেই ভয়াল রাতের তাৎপর্য তুলে আলোচনা করেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল বাসার, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক আব্দুল লতিফ, সদস্য সচিব আব্দুল মালেক ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক আব্দুল মালেক। অনুষ্ঠানের সঞ্চলনা করেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস। এ সময় অতিথিবৃন্দ ২৫ মার্চ ভয়াল রাতের উপর কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১৫ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
যশোর সরকারি এম এম কলেজে ২৫ মার্চ গণহত্যা ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহবায়ক শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ ও এম এম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিল্টু। অনুষ্ঠানের সঞ্চলনা করেন প্রভাষক সজিব কুন্ডু।
যশোর সরকারি সিটি কলেজে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. গাজী মনিবুর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক জয়নাল আবেদিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক প্রফেসর আব্দুল হালিম।
যশোর সরকারি মহিলা কলেজে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আলাউদ্দিন, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও আয়োজক কমিটির আহবায়ক রনজু আরা খাতুন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ নাজমুল হাসান ফারুক।
যশোর শিক্ষাবোর্ড স্কুল অন্ড কলেজে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হান্নান। অনুষ্ঠানের আহবায়ক নাছিরা পারভীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ।
কেশবপুর প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও নিরবতা পালন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার সকালে কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ওই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর প্রভাষক জাকির হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাষ্টার রফিকুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেশবপুরের প্রধান সমন্বয়কারী সম্রাট হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা তৌহিদুজ্জামান। এছাড়াও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা করেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে রাজাকার ও হানাদার বাহিনীর হাতে কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের টর্চার সেলে নির্যাতনের শিকার হওয়া আব্দুল মজিদ (বড়ভাই)।
আলোচনা সভা শেষে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে রাজাকার ও হানাদার বাহিনীর হাতে কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টর্চার সেলে নির্যাতনে আক্রান্ত হওয়া উপজেলার মজিদপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ (বড় ভাই), ঘাঘা গ্রামের মোসলেম উদ্দীন, কন্দর্পপুর গ্রামের আবু তালেব, বারুইহাটি গ্রামের কৃষ্ণপদ দাস, একই গ্রামের শিবুপদ দাস ও গৌর চন্দ্র বিশ্বাসের হাতে শান্তনা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সভার শুরুতেই ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গণহত্যার শিকার সকল শহিদদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বিমল কুমার কুন্ডু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার সুদীপ বিশ্বাস, উপজেলা সমবায় অফিসার নাসিমা খাতুন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুপালী রানী, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার আনজু মনোয়ারা, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা কামরুল হাসান, যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুস সামাদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পেশাজীবি সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াজিউর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক হাজী রুহুল কুদ্দুস, ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শামীম আখতার মুকুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু, প্রচার সম্পাদক আব্দুস সালাম মুর্শিদী, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম, নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদ বুলবুলসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।
শ্যামল দত্ত চৌগাছা (যশোর) থেকে: যশোরের চৌগাছায় ২৫ শে মার্চ ভয়ালকালো রাত গণহত্যা দিবাস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মহফিলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০ টার সময় চৌগাছা ছারা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুম গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভায় চৌগাছা ছারা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক কাজী গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানে সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র পৌর বিএনপির সভাপতি ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলীয়ার।
গণহত্যা দিবসে আলোচনা করেন বিশেষ অতিথি হিসেবে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক নাসির উদ্দীন, রোজিনা খাতুন, শামীম কবির, কাজী নজরুল। গণহত্যা দিবস শহীদদের মাগফেত দোয়া পরিচালনা করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা তানভীর আহমেদ।
কেশবপুর প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরে ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দীপশিখা প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের সেই কালরাতে নিহত শহীদদের স্মরণে ( ২৫ মার্চ) বুধবার সন্ধ্যায় কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত ‘যুদ্ধ ভাসান’ পাদদেশে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই আলোকপ্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াল গণহত্যা বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই আলোর মিছিলের মাধ্যমে আমরা সেইসব বীর শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার অঙ্গীকার করছি।
কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশ নেন। মোমবাতির আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে ‘যুদ্ধ ভাসান’ চত্বর, যা উপস্থিত জনতাকে সেই ঐতিহাসিক মুক্তি সংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের মনিরামপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে মনিরামপুর উপজেলা প্রশাসন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে মনিরামপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেনের সভাপতিত্বে ও গ্রাম আদালতের সমন্বয়কারী অনুপম ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের মা সংসদ সদস্য অ্যাডঃ গাজী এনামুল হক।সভাপতির বক্তব্যে মোঃ সম্রাট হোসেন বলেন,২৫ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় কালরাত্রি। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় স্বাধীনতার জন্য বাঙালির ত্যাগ, সংগ্রাম ও অদম্য সাহসিকতার কথা। নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানাতে এ ধরনের কর্মসূচির বিকল্প নেই।
প্রধান অতিথি অ্যাডঃগাজী এনামুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন,১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর যে বর্বরতা চালিয়েছিল, তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ গড়ার কাজে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই শহীদদের আত্মদান সার্থক হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ২৫ মার্চের নির্মমতা এবং স্বাধীনতার চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাইয়াদ আহমেদ ফয়সাল, মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রজিউল্লাহ খান, মনিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মজনুর রহমান, বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা খান আক্তার হোসেনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, ২৫ মার্চের কালরাত্রির স্মৃতি শুধু শোকের নয়, এটি আমাদের জাগরণেরও প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করাই আজকের দিনের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানটি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনর্জাগরণের প্রত্যয়ে শেষ হয়।
পাইকগাছা (খুলনা ) প্রতিনিধি:
২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস -২০২৫ উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাইকগাছায় বধ্যভূমিতে পুস্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে কপিলমুনি বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী’র সভাপতিত্বে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং ঐতিহাসিক
মহান মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতেই সকল শহীদ প্রতি এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে এসএফডিএফ কর্মকর্তা জিএম জাকারিয়া’র উপস্থাপনায় বক্তৃতা করেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, কৃষি কর্মকর্তা মো. এনামুল হোসেন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পার্থ প্রতিম রায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ, সাবেক সহকারী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গাজী রুহুল আমিন ও রনজিৎ কুমার সরকার, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলী শেখ, সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস, সমবায় কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, বন কর্মকর্তা প্রবীর কুমার দত্ত, আইসিটি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার, নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বজলুর রশীদ, এস আই মাসুদ, সমবায় অফিসার মো. হুমায়ুন কবির, জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রশান্ত পাল, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মরিউম আক্তার, উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ, পৌর সভাপতি আসলাম পারভেজ, আবুল হোসেন, তুষার কান্তি মন্ডল, জেলা ইউনিট সদস্য প্রফেসর আব্দুল মোমিন সানা, অধ্যক্ষ হাবিবুল্লাহ বাহার, প্রাক্তন অধ্যক্ষ রমেন্দ্র নাথ সরকার, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল ওহাব ও দেবাশীষ সরদার, রহিমা আক্তার শম্পা, মডেল মসজিদের ইমাম মো. আশরাফুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আ. আজিজ, সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধান, পূর্ণ চন্দ্র মন্ডল, জালাল আহমেদ, ইসরাফিল আহমেদ, বিআরডিবি সঞ্চয় মন্ডল, শিক্ষার্থী এস এম সাজিদুর রহমান ও অহনা রহমান প্রমুখ।
এসময় বীরমুক্তিযোদ্ধা, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধি, সাংবাদিক বৃন্দ সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে জোহরবাদ সকল শহিদের স্মরণে মোনাজাত, প্রার্থনা, সন্ধ্যায় পৌরসভা চত্বরে গণহত্যার ওপর বিষয় বস্তু ও নৈর্ব্যক্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং রাত ১০.৩০ মি.- ১০.৩১ মি. পর্যন্ত প্রতীকী ব্ল্যাক আউট কর্মসূচি পালন করা হয়।
এছাড়া পাইকগাছা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর সমারেশ রায়, সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আ. ওহাব, দেলুটিতে ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল এর সভাপতিত্বে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালিত হয়।

