একাত্তর ডেস্ক: যশোরের শার্শা ও কেশবপুর আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। এর আগে যশোর ৫ মণিরামপুর আসনে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। শেষ মুহুর্তে মনোনয়ন পরিবর্তনে এসব আসনে নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিলেও অপর অংশের অনুসারীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
বেনাপোল প্রতিনিধি জানান,যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান লিটন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির ও মনোনীত প্রার্থী আলহাজ নুরুজ্জামান লিটন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে,বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয় নুরুজ্জামান লিটনকে।
দলীয় সূত্র জানায়,নুরুজ্জামান লিটন দীর্ঘদিন ধরে শার্শায় বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকা-ে সক্রিয়। রাজনৈতিক দুঃসময়ে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান। সামাজিক ও মানবিক কর্মকা-েও তাঁর ভূমিকা এলাকায় আলোচিত।
মনোনয়ন পাওয়ায় প্রতিক্রিয়ায় নুরুজ্জামান লিটন বলেন,দল থেকে আমাকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একাধিক প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতে পারে- এটি আগেই জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তে এ আসনে আমাকে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
মনোনয়ন পরিবর্তনের খবরে তৃপ্তির সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিলেও নুরুজ্জামান লিটনের অনুসারীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে প্রাথমিকভাবে এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি। গত দেড় মাস ধরে তিনি এলাকায় সক্রিয় প্রচার-প্রচারণাও চালান। তবে শেষ মুহূর্তে দলীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তৃপ্তির পরিবর্তে নুরুজ্জামান লিটনকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
এই আসনে আরও দু-জন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তারা হলেন-শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির ও উপজেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু।
কেশবপুর প্রতিনিধি জানান,
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বিএনপি’র চূড়ান্ত মনোনয়নে বড় ধরনের চমক এসেছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সভাপতি ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতা কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে বাদ দিয়ে শেষ মুহূর্তে ধানের শীষের টিকিট তুলে দেওয়া হয়েছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদের হাতে।
বুধবার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি আবুল হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ছাত্রদলের রাজনীতি করতে গিয়ে নিজ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন (ত্যাজ্য) হয়েছিলেন দেশজুড়ে আলোচিত ছিল। রাজপথের লড়াই-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আসা এই তরুণ নেতা প্রথমে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন। গত দেড় মাস ধরে তিনি এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে তুলেছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম না থাকায় অনুসারীদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী একটি অংশ শ্রাবণের মনোনয়নের ব্যাপারে শুরু থেকেই বিরোধী অবস্থানে ছিল।শ্রাবণ তরুণ ও লড়াকু নেতা হলেও স্থানীয় ভোটের রাজনীতিতে প্রবীণ ও সাংগঠনিকভাবে সুসংগত প্রার্থীকে প্রাধান্য দিয়েছে কেন্দ্র।
গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে কেশবপুর বিএনপির দুঃসময়ে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলা-হামলায় জর্জরিত কর্মীদের আইনি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে তিনি আস্থার প্রতীকে পরিণত হন। নিজস্ব অর্থায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং অসহায় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে তিনি এলাকায় ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন।
মনোনয়নবঞ্চিত হলেও দল ও আদর্শের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে বুধবার দুপুরে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। সেখানে প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবালের পরিবর্তনে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের (একাংশ) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

