শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরের মণিরামপুরে ৭ ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে,সেবায় ভোগান্তি

আরো খবর

 নিজস্ব প্রতিবেদক :যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের দেখা মিলছে না। মামলার ভয়ে তাঁরা আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে। এতে পরিষদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। জনসাধারণের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে এসব ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রত্যাশিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, জন্মনিবন্ধন, ভিজিডি-ভিজিএফ কার্ড, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা, প্রকল্প অনুমোদন—এসব কাজে সেবা নিতে আসা মানুষজনকে বারবার ঘুরতে হচ্ছে। একজন সেবাগ্রহীতা বলেন, “আগে চেয়ারম্যানকে পেলেই এক দিনে কাজ হতো। এখন দিনের পর দিন দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে।”
সেবা নিতে আসা মানুষদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে এখন আর আগের মতো সহজে সেবা মেলে না। জন্মনিবন্ধন, ভিজিডি-ভিজিএফ কার্ড, বয়স্ক ও বিধবা ভাতার অনুমোদন কিংবা প্রকল্প সংক্রান্ত কাগজপত্রে সামান্য স্বাক্ষরের জন্যও বারবার অফিসে যেতে হচ্ছে। প্রশাসকরা মূলত নিজ নিজ সরকারি দপ্তরের কাজে ব্যস্ত থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে গতি নেই। ফলে দরিদ্র, অসুস্থ ও অসহায় মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
যেসব ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন তার মধ্যে মশ্বিমনগর ইউনিয়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না, ঝাপায় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রেজাউল হক, দূর্বাডাঙ্গায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহা. আলমগীর হোসেন, রহিতায় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রনজিৎ দাস, কাশিমনগরে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, চালুয়াহাটিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম শোভন এবং কুলটিয়া ইউনিয়নে  উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. রাজু আহম্মেদ প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলায় মোট ১৭ টি ইউনিয়ন রয়েছে।
জনগণের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিই পারে প্রকৃত সেবা নিশ্চিত করতে।”
এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজহারুল ইসলাম দৈনিক প্রজন্ম একাত্তরকে বলেন, “প্রশাসকরা দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট আছেন। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরো পড়ুন

সর্বশেষ