বিশেষ প্রতিনিধি : যশোরের মুকুল অয়েল মিলের মালিক কামরুজ্জামান মুকুলের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে স্ত্রীকে মারপিটের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। গতকাল রোববার শহরের সুরেন্দ্রনাথ সড়কস্থ ষষ্ঠীতলা পাড়ার সেলিম হোসেনের মেয়ে বিপাশা আক্তার বৃষ্টি এই মামলা করেছেন।
বিচারক অতিরিক্ত চীপ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ আহমেদ আসামির বিরুদ্ধে সমনজারীর আদেশ দিয়েছেন। আসামি কামরুজ্জামান মুকুল চারখাম্বার মোড়ের আবু বক্কার সিদ্দিকীর ছেলে।
বাদী মামলায় জানিয়েছেন, বাদী বৃষ্টির দ্বিতীয় স্বামী মুকুল। আবার মুকুলের দ্বিতীয় স্ত্রী বৃষ্টি। ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল তিন লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্যে বৃষ্টিকে বিয়ে করেন মুকুল। কিন্তু বিয়ের সময় দেনমোহরের টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার দেয়া হয় বৃষ্টিকে। বিয়ের কিছুদিন যেতেনা যেতেই বাদীর অয়েল মিলের ব্যবসা মন্দা ভাব দেখা দেয়। সে কারণে তিন মাস পূর্বে আসামি মুকুল তার স্ত্রী বৃষ্টির কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। রাজি না হলে মারপিট শুরু করে। ফলে পিতার বাড়ি থেকে চার লাখ টাকা যৌতুক বাবদ এনে স্বামীকে দেন। আবার কিছুদিন পর বাকি ছয় লাখ টাকার জন্য গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে বৃষ্টিকে মারপিট শুরু করে। পরদিন ১ আগস্ট বৃষ্টি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দেন।
বিষয়টি মিমাংসার জন্য থানা কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করে। ওই সময় যৌতুক ছাড়া স্ত্রীকে সংসার করবেন এবং আর কোনদিন নির্যাতন করা হবেনা বলে অঙ্গীকার করেন। কিন্তু থানা থেকে ফিরেই স্বর্ণালংকার, ডিপিএস ও ব্যাংকের চেক বই রেখে এক বস্ত্রে বৃষ্টিকে তার পিতার বাড়িতে তাড়িয়ে দেয় তার স্বামী মুকুল। ২ আগস্ট আসামিকে বৃষ্টির পিতার বাড়িতে ডেকে এনে যৌতুক ছাড়া সংসার করার জন্য অনুরোধ করা হয়। এসময় যৌতুক ছাড়া বৃষ্টিকে নিয়ে সংসার করবেন না বলে সেখান থেকে চলে যান।

