শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি:-
যশোরের শার্শায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংশতায় বিভিন্ন স্থানে চেয়ারম্যান প্রার্থী দু পক্ষের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে প্রায় ৬৮জন আহত হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে পরাজিত প্রাথীদের কর্মি ও সমর্থকদের ঘরবাড়ি,দেওয়া হয়েছে হত্যার হুমকি। বাড়ী ছেড়ে পালিয়েছে গোগাসহ বিভিন্ন এলাকার কর্মিসমর্থকেরা। আহতদের মধ্যে ৮জনের অবস্থা আশংকাজনক। ঘটনাস্থলে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। মেম্বর প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যেও চলছে সংঘর্ষ।
র্শাশার কায়বা,বাগআচড়া,গোগা,উলাশি ও বাহাদুরপুর ইউনিয়নে কয়েক দফায় চলেছে সংঘর্ষ। বাগআচড়ার সামটা গ্রামে নৌকা সমর্থিত মেম্বর প্রার্থী ইদ্রিস আলী সাহাজি আনারস সমর্থক মেম্বর প্রাথীর জিয়াউল ইসলাম জিয়ার সমর্থকদের মধ্যে শনিবার চলে সংঘর্ষ। এসময় ইদ্রিস সাহাজি পক্ষের আসমা, রওশনারা, ইসমাইল, আকতার, রাব্বি,রেবেকা ও মনজুয়ারা আহত হয়। অপর পক্ষে জিয়া সমর্থিত রেজাউল, আশরাফুল, আতিয়ার, আনারুল, ইমনরানসহ উভয় পক্ষের ১৪ জন আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে নাভারন ও গুরুতর ৮জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। ইদ্রিস সাহাজির অভিযোগ বিজয়ী প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা তাদের বাসার সামনে এসে মারপিট ও ভাংচুর চালায়। তবে মেম্বর জিয়া বলেন ইদ্রিস সাহাজির লোকজন সোমবার সকালে তার সমর্থকদের বাজারে পেয়ে জন সন্মুখে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে। এরই জেরে বাধে সংঘর্ষ। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ৫জনকে রাতেই আটক করেছে।এদিকে শার্শা পান্তা পাড়ায় সেন্টুও তোতা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে শাহিন ফজলু,জাহ্ঙ্গীর ও বেবীসহ ৫জন আহত হয়। আহতরা নাভারন হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে। এছাড়াও উলাশি ,ডুপপাড়া,বাইকোলা.দাদখালি,রাড়িপুকুর,গোগা সহ বিভিন্ন এলাকায় বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকেরা হামলা ও ভাংচুর চালায়। আহত হয় অর্ধশত। অনেকে পালিয়ে যায় এলাকা ছেড়ে।
জিয়া সমর্থক ভুক্তভোগী আহত স্বজনেরা বলেন নেক্কার জনক এমন হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান তারা।
ইসমাইল সিরাজি সমর্থিত আহত ও স্বজনেরা বলেন মেম্বর জিয়া নির্বাচনে জিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে তারা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান আহতের পরিবার ও স্থানীযরা।
তবে গোগা ইউনিয়ন পরিষদের বিজয়ী চেয়ারম্যান তবিবর রহমান ও বাগআচড়ার ইউনিয়ন পরিষদের বিজয়ী চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক মাইকিং করে সমর্থক ও কর্মিদের শান্ত থাকতে বলেছে। কোন অশান্তি সৃষ্টি থেকে সবাইকে আন্তরিক হওয়ায় আহব্বান জানিয়েছেন তারা।
যশোরের নাভারন সার্কেল এ এসপি জুয়েল ইমরান জানান উপজেলার পরিস্তিতি অনেকটা স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। কিছু বিক্ষুপ্ত ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারিদের আনা হবে আইনের আওতায়। সব বিজয়ী প্রার্থীকে শান্ত থাকার আহব্বান জানান তিনি
