শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরের সীমান্ত দিয়ে আসছে ফেন্সিডিলের বিকল্প ‘উইন কোরেক্স’ সিরাপ

আরো খবর

সুমন হোসাইন: যশোরের শার্শা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসছে ফেন্সিডিলের নতুন সংস্করণ উইন কোরেক্স সিরাপ। গত দশদিনে শার্শা ও বেনাপোল সীমান্তে ৮৫০ বোতল ‘উইন কোরেক্স’ সিরাপ আটক করেছে বিজিবি। দাম কম হওয়ার কারনে ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসাবে ‘উইন কোরেক্স’ সিরাপ বর্তমান তরুন সমাজ গ্রহন করছে। মাদকসেবীদরে কাছে চাহিদা বৃদ্ধির কারনে সীমান্ত দিয়ে দেদারছে প্রবেশ করছে এই উইন কোরেক্স সিরাপ।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শার্শা ও বেনাপোল সীমান্তে এক বোতল ফেন্সিডিল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। আর ফেন্সিডিলের বিকল্প আসা এক বোতল কোরেক্স বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮শ থেকে ৯শ টাকায়। ফলে নতুন এ মাদকদ্রব্য এরই মধ্যে মাদকসেবীদের কাছে বেশ প্রিয় হয়ে উঠেছে।

 

 

উইন কোরেক্স হুবহু ফেন্সিডিলের বোতলের মতো দেখতে। স্বাদও নাকি ফেন্সিডিলের মতোই। তাছাড়া ফেন্সিডিল বহনে নানা ঝুঁকি ও জটিলতা থাকায় মাদক চোরাকারবারী ও মাদকসেবীরা নতুন আসা কোরেক্স বেছে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে যারা ফেন্সিডিলের কারবার করতেন তারা এখন নতুন এই ‘মাদক কারবারে’ জড়িয়েছেন। তাছাড়া ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মাদকদ্রব্য প্রবেশের ক্ষেত্রে বাঁধা প্রদান করেনা। বাংলাদেশে ফেন্সিডিল ও গাঁজা প্রবেশে চোরাকারবারীদের সাথে তাদের সরাসরি আতাত রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ফেনসিডিল ও ‘উইন কোরেক্স’ মূলত একই জিনিস। দুটিই কোডিন ফসফেট মিশ্রিত। ভিন্ন নামের কারণে মাদকসেবীরাও এটার দিকে ঝুঁকছেন।

 

 

 

গত ৭ নভেম্বর গোগা এবং কায়বা বিওপির সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩১৩ বোতল ভারতীয় উইন কোরেক্স সিরাপ আটক করে ২১-বিজিবি। ১০ নভেম্বর আমড়াখালী চেকপোষ্ট এলাকায় ৩০ বোতল উইন কোরেক্স সিরাপ আটক করে ৪৯ বিজিবি। ১১ নভেম্বর কায়বা সীমান্ত থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩৮৯ বোতল ও গোগা সীমান্ত থেকে ১০৮ বোতল সর্বমোট ৫০৭ বোতল ভারতীয় উইন্সেরেক্স সিরাপ জব্দ করে ২১ বিজিবি।

 

 

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফেন্সিডিল পাচার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা ভারতে কাশির সিরাপ হিসেবে ব্যবহৃত ওই দুটি সিরাপকে মাদকদ্রব্য হিসেবে ব্যবহারে জন্য সেগুলোর ছিপি খুলে প্যাথেডিন ঢুকিয়ে দেয়। এতে মাদকসেবীদের নেশা গাঢ় হওয়ায় তারা এই নতুন মরণ নেশার দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেশা করা এক যুবক বলেন, বর্তমান ফেন্সিডিল এক বোতল চার হাজার টাকায় ক্রয় করতে হচ্ছে। সেখানে ৯শ থেকে ১ হাজার টাকা পাওয়া যাচ্ছে উইন কোরেক্স। তাই অধিকাংশ মাদকসেবী বিকল্প নতুন এই নেশার দিকে ঝুঁকছেন। তাছাড়া প্রকাশ্যে সিরাপ খেলেও সাধারণত কেউ সন্দেহ করেন না। সিরাপ শরীরে যাওয়ার পরে মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। মনে হয় যেন একটা আলাদা জগতে চলে গিয়েছি। কেউ শুধু সিরাপ খেয়ে নেশা করে।

 

 

 

 

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ শুভংকর কুমার মন্ডল জানান, উইন কোরেক্স সেবনে গলাবুক শুকিয়ে আসে ঝিমুনির মতো ভাব হয়ে থাকে। এটি সেবনে কিডনি ও লিভার অকেজো হয়ে পড়ে। এই নেশার আরেকটি বড় ক্ষতির দিক হচ্ছে, দীর্ঘদিন সেবনে পুরুষের প্রজননক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

 

 

 

যশোর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আসলাম হোসেন জানান, আমরা নতুন করে উইন কোরেক্স’র নাম শুনেছি। কিন্তু এখনও যশোর জেলায় উদ্ধার বা জড়িত কাউকে আটক করা হয়নি। যদিও জেলার বিভিন্ন স্থানের সোর্সসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সকল সদস্যদের উইন্স কোরেক্সের ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। সন্ধান পাওয়া মাত্রই বিক্রেতা বা সেবী যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

যশোর ৪৯ ও খুলনা ২১ (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, ভারত থেকে বর্তমান ফেন্সিডিলের নতুন সংস্করণ ‘উইন কোরেক্স সিরাপ অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে। সীমান্তে ‘উইন কোরেক্স সিরাপ প্রবেশে ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারী ও টহল তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ