বিশেষ প্রতিনিধি:যশোরে সেই ১২ বছরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষনের মামলা থামাতে ২ লাখ টাকার প্রস্তাব দিয়েছে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুফতি শাহাদৎ হোসেনের নিকটজনেরা।
এ ছাড়া মামলা থামাতে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী তসলিমা খাতুন সেই ভুক্তভোগী ছাত্রীকে অভিযুেেক্তর সাথে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছেন। ১৪ মার্চ এই প্রতিবেদকের সাথে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন ভ’ক্তভোগী ছাত্রীর মা,বাবাসহ নিকটজনেরা। এ সময় ভুক্তভোগী ছাত্রী তার মা,বাবা,ভাবী,ওই মাদ্রাসার অপর দুই শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১৩ জন অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগীর মা,বাবা এবং ভাবি বলেন গত ফেব্রয়ারি মাসের ১৩ তারিখের পর থেকেই শাহাদৎ হোসেন তার স্ত্রী বাড়িতে না থাকলে আমার মেয়েকে বিভিন্ন কাজের অসিলায় ঘরে ডাকতেন। এভাবে তিনি তাকে উত্যক্ত করতে করতে গত ৮ মার্চ আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে সে আমার মেয়েকে তার ঘরের মধ্যে ডেকে নিয়ে জোর করে ধর্ষন করে।
২দিন পেের ঘটনা জানতে পেরে ১১ মার্চ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করি। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা এবং আদালতে জবানবন্দি সম্পন্ন হয়েছে বলে তার মা জানিয়েছেন। এদিকে মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহাদৎ হোসেনের বিভিন্ন আত্নীয়স্বজন বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মামলা বন্ধ করতে চাইছেন। দুদিন আগে ওই মাদ্রাসার লাকি ম্যাডামের স্বামী ভুক্তভোগী ছাত্রীদের বাড়িতে যান। তিনি টাকার বিনিময়ে মামলাটা মিটাতে বলেন। এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা,বাবাকে ২ লাখ টাকার প্রস্তাব দেন।
ঘটনা জানতে সরেজমিনে গেলে মাদ্রাসাটি বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে আরবপুর পাওয়ার হাউসপাড়ার লোকজন জানিয়েছেন, গত ৩ বছর আগে এই শাহাদৎ হোসেন এলাকার শহিদুল্লাহ্’র তৃতীয় তলা (রাস্তার পশ্চিম পাশের) ভবনের নীচতলার দুটি ইউনিট ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসাটি চালু করেন। পরবর্তীতে পাওয়ার হাউস সংলগ্ন (রাস্তার পূর্ব পাশের) আরো একটি টিনসেড বাড়ি ভাড়া নিয়ে একই নামে একটি কিন্ডার গার্টেন শাখা চালু করেন শাহাদৎ হোসেন। পাশাপাশি পুর্বের স্থানটিতে ছাত্রীদের (আবাসিক) থাকার ব্যবস্থা করেন। এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। ধর্র্ষনের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হওয়ার পর তিনি আত্নগোপনে আছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা যশোর কোতয়ালী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে চেষ্টা অব্যাহত আছে। মামলার স্বার্থে এরচেয়ে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।

