নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের টাউন হলে মাঠে ১৯৯৯ সালে ৬ মার্চ উদীচীর সম্মেলনে মর্মান্তিক বোমা হামলার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে শহরের কোর্ট মোড়ে উদীচী যশোরের আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীরা ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ অংশ নেন। সভায় বক্তারা বলেন, উদীচী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের ব্যাপারে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে; সেই সরকারই সীমাহীন অবহেলা দেখিয়েছে।
২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া থেমে আছে। উদীচীর ওপর বোমা হামলার সুষ্ঠু বিচার হলে হামলাকারীরা পরবর্তী সময়ে সংঘঠিত একের পর এক বোমা হামলার সুযোগ পেত না।
সবাই বিচারের নামে প্রহসন করেছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের এত বছর হলেও বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি মূল ঘাতকদের। এমনকি, কারা এই জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছিল, তা-ও উদ্ঘাটিত হয়নি। হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পারা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।
উদীচী যশোরের সভাপতি আমিনুর রহমান হিরু বলেন, ‘২৭ বছর পার হলেও উদীচীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কুশীলবদের চিহ্নিত করা যায়নি। উদীচী হত্যাকাণ্ডের এই বিচারহীনতা রাষ্ট্রের দুর্বলতা। সেই দুর্বলতার সুযোগেই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো তাদের বিস্তার ঘটিয়েছে।
২৭ বছর ধরেই আমরা বিচারহীনতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছি। শুরুতেই যদি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উদীচী ট্র্যাজেডির দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন করা যেত তাহলে হয়তো জঙ্গীদের উত্থানের পরবর্তী ঘটনাগুলো ঘটতো না।’
ওই ঘটনায় আহতদের একজন উদীচী কর্মী সুকান্ত দাস। তিনি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন সেই দিনের দুঃসহ স্মৃতি। এক পা হারিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাত ও কান। তিনিও এসেছিলেন মানববন্ধনে। তিনি বলেন, ‘সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু বিচার করেনি কেউ। সবাই বিচারের নামে প্রহসন করেছে।’
সুকান্ত দাস বলেন, ‘২৭ বছর রহস্য উদঘাটন করা যায়নি; এমনকি মামলাটার কি অবস্থা সেটা আমরা কেউ জানি না। একটি পা কেটে কৃত্রিম পা লাগিয়ে হাঁটতে হয়। ২০২২ সালে ভারত থেকে কান অপারেশন করি। প্রতিনিয়ত পায়ে যন্ত্রণা করে। বেশি হাঁটতে পারি না। হাত দিয়ে লিখতে পারি না। ২৭ বছর ধরে বাম হাত দিয়ে খাওয়া, লেখাসহ যাবতীয় কাজ করতে হয়। এত কষ্টের পরও এটা বলতে লজ্জা লাগে; এখনও রাষ্ট্রের কাছে বিচার পেলাম না।’
‘আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে’ শিরোনামে যশোর হত্যাকাণ্ড দিবসের এই প্রতিবাদ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন উদীচী যশোর জেলা সংসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু। বক্তব্য দেন, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা, শিল্পকলা অ্যাকাডেমি যশোরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোরের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু, চাঁদের হাট যশোরের সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যশোর কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাক হোসেন শিম্বা, উদীচী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব, সংস্কৃতিজন বাসুদেব বিশ্বাস প্রমুখ। সমাবেশে নেতারা উদীচী হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোর টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে বোমা হামলা চালানো হয়। বোমার আঘাতে শিল্পীসহ ১০ জন নিহত ও শত শত নিরীহ মানুষ আহত হন।

