শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরে  একজনের যাবজ্জীবন, দুইজনের পৃথক মেয়াদে সাজা

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

যশোরে পৃথক মামলার রায়ে মামলায় এক যুবকের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, আরেকজনেন ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও চোরাচালান মামলায় আরও একজনের সাতবছরের সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের আদেশ দিয়েছে একটি আদালত। বুধবার পৃথক তিনটি মামলার রায়ে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শিমুল কুমার বিশ্বাস এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পিপি অতিরিক্ত পিপি শ্যামল কুমার মজুমদার।

আদালত ও মামলা সূত্রে যানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর বিকেলে শার্শা থানা পুলিশের একটি টিম নাভারনের সাতক্ষীরা মোড়ে অবস্থানকালে খবর পায় সাতক্ষীরা রোডের আনসার ক্যাম্প ক্যান্টিনের সামনে এক যুবক মাদক নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। তাৎক্ষনিক পুলিশের সেই টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে শার্শার বুরুজবাগান গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে আব্দুর রহিমকে আটক করে।  পরে তার কাছে থাকা একটি শপিং ব্যাগ থেকে এক কেজী হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় শার্শা থানার এসআই পলাশ কুমার রায় বাদী হয়ে মাদক দ্রব্য আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে এসআই বাবুল আক্তার আব্দুর রহিমকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। রহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তার উপস্থিতিতে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন।

অপর দিকে, মাদক মামলায় চৌগাছার বড়কাকুড়িয়া গ্রামের খাইরুল হকের ছেলে পলাতক জাহিদুল ইসলামের ১০বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছে একই আদালত।

মামলা সূত্রে যানা যায়, ২০২০ সালের ১৩ জুলাই বিকালে চৌগাছা থানা পুলিশের কাছে খবর আসে রুস্তমপুর গ্রামে একজন মাদক বেচাকেনা করছে। তাৎক্ষনিক একটি টিম ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে জাাহিদুলকে আটক করে। এসময় তার কাছে থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ৬০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় মামলা করেন এসআই ফিরোজ ইকবাল। মামলাটি তদন্ত করে এসআই কওসার আলম আদালতে চার্জশিট জমা দেন। বুধবার রায় ঘোষনার দিনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন।

এছাড়া, চোরচালানের আরেকটি মামলায় চৌগাছা উপজেলার হুদাপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে সাগরের সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন। মামলা সূত্রে যানা যায়, ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর চৌগাছার মশ্যমপুরে তল্লাশি অভিযান চালায় বিজিবি সদস্যরা। এসময় সাগরকে ভারত সীমান্ত দিয়ে আসতে দেখে বিজিবির সন্দেহ হয়। বিজিবি ধাওয়া দিলে সাগর মশ্যমপুর স্কুল মাঠে একটি পোটলা ফেলে পালিয়ে যায়।

পরে ওই পোটলা থেকে ২৬৪ পিছ রুপার পায়েল ও ২০ পিছ রুপার বিছা মোট চারকেজী ভারতীয় রুপা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন হাবিলদার তেহোরুল ইসলাম। মামলাটি তদন্ত করে এসআই সৈয়দ এসআই সৈয়দ আশিকুর রহমান। বুধবার রায় ঘোষনার দিনে সাগরের উপস্থিতিতে তাকে সাত বছরের কারাদন্ডের আদেশ দেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ