নুসরাত জামান: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬ টি সংসদীয় আসনে একটিতে ধানের শীষের প্রার্থী এবং অপর ৫ টিতে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী বে-সরকারি ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শান্তিপুর্ণ পরিবেশে এই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলার কোন আসনের সরকারিভাবে ফলাফল ঘোষনা করা হয়নি। বেসরকারি সূত্রে উল্লেখিত ফলাফলের খবরে পাওয়া গেছে। তবে পোষ্টাল এবং গণভোটের তথ্য না পাওয়ায় প্রাপ্ত ফলাফলে তা যোগ করা সম্ভব হয়নি।
যশোর-১ শার্শা সংসদীয় আসনে বেসরকারি ফলাফলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আজীজুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১৮ হাজার ২৫৫। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ধানের শীষের প্রার্থী লিটন পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯০৯ ভোট। আজীজুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন২৫ হাজার ৩৪৫ ভোটে।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অপর দুই প্রার্থী জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বখতিয়ার রহমান। শার্শা আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩, হিজড়া ভোটার ৩। ১০২ ভোট কেন্দ্রের ৫৭৭ ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হয়। দায়িত্বপালন করেন ১ হাজার ৮৩৩ ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা।
যশোর- ২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ। তিনি ২৩ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।ঝিকরগাছা- চৌগাছা আসনের মোট ভোট কেন্দ্র ১৮৫ টি। ঝিকরগাছা- চৌগাছা আসনের মোট ভোট কেন্দ্র ১৮৫ টি।
এর মধ্যে চৌগাছা উপজেলার ৮১ টি ভোট কেন্দ্রে দাড়িপাল্লা ৭৬ হাজার ৩৫৩ ভোট এবং ধানের শীষ ৬৭ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়েছেন।
এ উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ দাঁড়িপাল্লার প্রতীকে ৮ হাজার ৮৭৭ ভোট বেশী পেয়েছেন।
ঝিকরগাছা উপজেলার ৯৪ টি ভোট কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯২ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়েছেন।
বিএনপি প্রার্থী সাবেরা সুলতানা ধানের ৭৭ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়েছেন।এখানে ১৪ হাজার ৬৯০ ভোট বেশি ভোট পেয়েছেন মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ ২৩ হাজার ৫৬৮ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাব বিজয়ী হয়েছেন।
যশোর-৩ সদর আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অনিন্দ ইসলাম অমিত নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯০টি কেন্দ্রে মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৯১৭ ভোট । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আব্দুল কাদের (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৬২ ভোট। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ১৪৭৫৫ ভোটের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন।
যশোর সদর উপজেলার (বাসুন্দিয়া ইউনিয়ন ব্যতীত) এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৬,১৩,৪৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩,০৭,৫৪৯ জন এবং নারী ভোটার ৩,০৫,৯০১ জন। ১৯০টি কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। এআসনে জাতীয় পার্টির খবির গাজী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন,জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) প্রার্থী নিজামদ্দিন অমিত ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (বাসদ) প্রার্থী রাশেদ খান নির্বাচন করেন।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে বেসরকারি ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গোলাম রসুল। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৭৫ হাজার ২৪২। সেখানে বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৩০৪ ভোট। এআসনে স্বতন্ত্র এম নাজিম উদ্দীন আল আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) প্রার্থী সুকৃতি কুমার মন্ডল প্রতিদ্বন্ধিতা করেন।এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫২৯জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৫০, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৫, হিজড়া ভোটার ৪।
যশোর-৫ মনিরামপুর আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী গাজী এনামুল হক বেসরকারি ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৫০ হাজার ৬০৯ ভোট। এ আসনে তাঁর নিকতম প্রতিদ্বন্ধি স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মোহম্ম ইকবাল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১১৩ ভোট। এ সেখানে ধানের শীষের প্রার্থী রশিদ আহমেদ পেয়েছেন ২২ হাজার ১৩৪ ভোট।এ আসনে জাতীয় পার্টির এম এ হালিম ও ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদিন প্রতিদ্বন্ধিতা করেন।মণিরামপুর আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ২৫২জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭৭, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭১, হিজড়া ভোটার ৪। ১২৮ ভোট কেন্দ্রের ৭২০ ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।দায়িত্বপালন করেন ২ হাজার ২৮৮ ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা।
যশোর-৬ কেশবপুর আসনে বেসরকারি সূত্রে প্রাপ্ত ফলাফলে জামায়াত প্রার্থী প্রফেসর মোক্তার আলী নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিক দাঁড়িপাল্লার প্রাপ্ত ভোট ৯১ হাজার ৩৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ধানের শীষের আবুল হোসেন আজাদ পেয়েছেন ৭৯ হাজার ১৫৯ ভোট। প্রফেসর মোক্তার আলী ১১ হাজার৮৭৮ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। সকাল থেকে শান্তিপুর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ করা হয়।
এআসনে মোট ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ১৬৩জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৫ হাজার ২৪৪, মহিলা ভোটার ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১৭, হিজড়া ভোটার ২। ৮১ ভোট কেন্দ্রের ৪২৫ ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হয়। দায়িত্বপালন করেন ১ হাজার ৩৫৬ ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসরা ৮১, সহপ্রিজাইডিং অফিসার ৪২৫, পোলিং অফিসার ৮৫০ । জেলার ৬ টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন।

