সোমবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩০শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরে কিশোর অপরাধীদের কারণে ছিনতাই বেড়েছে ঘটছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ

আরো খবর

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্প্রতি যশোরে ছিনতাই ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। গত এক সপ্তাহে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ৬ জন আহত হন। এ সব ঘটনার মূলে রয়েছে কিশোর অপরাধীরা। এছাড়া ৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার পুলিশ শহরের খড়কি ও সার্কিট হাউজপাড়া থেকে বার্মিজ চাকুসহ ৯ কিশোর অপরাধীকে গ্রেফতার করে। এতে প্রমান হয় শহরে কিশোর অপরাধীদের অপতৎপরতা বেড়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লায় পুলিশি তৎপরতা না থাকার কারণে কিশোর অপরাধী, ছিনতাইকারিদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা ঘটছে।
শনিবার ১১ ডিসেম্বর যশোরে পৃথক স্থানে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে দুই যুবক গুরুতর আহত হয়। এদের একজন শহরতলীর ঝুমঝুমপুরের মহিদ হোসেনের ছেলে হাসিবুর রহমান (১৯) ও শহরের ষষ্টীতলা এলাকার রেজাউল করীমের ছেলে নাসির হোসেন (২৬)। তাদেরকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসিবুর জানান, শনিবার দুপুরে তিনি ঝুমঝুমপুর বিসমিল্লাহ মিলের সামনে যান । এসময় এলাকার বিদ্যুতের নেতৃত্বে কয়েকজন এসে তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে দ্রুত তারা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা হাসিবুরকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বিদ্যুতের সাথে তার পূর্ব শত্রুতা ছিলো বলে জানান তিনি।
নাসির জানান, একটি মামলার জামিন নিয়ে তিনি বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে মোবাইল কেনার বিষয় নিয়ে এলাকার মিন্টুর সাথে তার কথা হচ্ছিলো। এসময় কোর্ট মোড়ে পৌঁছুলে এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় তার সাথে থাকা দুই ভাই মিলে আমাকে ছুরিকাঘাত করে।
আসামিরা হলেন, ষষ্টীতলা এলাকার ইমান আলীর ছেলে মিন্টু (৩০), রেন্টু (২৪) ও পিন্টু (২৮)।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুরছালিন রহমান জানান, আহত হাসিবুরের ডান পায়ের তিন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে।
চলতি মাসের ৮ডিসেম্বর বুধবার শহরের বেজপাড়া এলকায় এক দম্পতিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। তারা ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে ছুরিকাহত হন। তারা হলেন, শহরের আরএন রোড এলাকার দোকান কর্মচারী জাহিদ হাসান (২৮) ও তার স্ত্রী নুসরাত ফারিয়া (১৮)।
আহত জাহিদ জানান, সে তার স্ত্রীকে নিয়ে বেজপাড়া হেমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে বেজপাড়া ছয়তলা এলাকায় পৌঁছুলে অজ্ঞাত কয়েকজন ছিনতাইকারি তাদের রিক্সা থামায়। তারা জাহিদের স্ত্রীর ব্যাগ ধরে টানাটানি করে। জাহিদ বাধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে আমার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে তার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। জাহিদের স্ত্রীর ব্যাগে দেড় হাজার টাকা ও একটি স্মার্ট ফোন ছিলো। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদেরকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরো বলেন, পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ছিনতাইকারীরা ছিলো, বেজপাড়ার গোড়গোল্লার মোড় এলাকার খালেকের ছেলে ডলারের নেতৃত্বে আরো তিন থেকে চারজন ঘটনার সাথে জড়িত ছিলো।
আগের দিন মঙ্গলবার ৭ ডিসেম্বর ছুরিকাঘাতে জখম হন আরো দুই যুবক। তারা হলেন, বাঘারপাড়া উপজেলার জয়পুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (২০) ও দয়ারামপুর গ্রামের কাছেদ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৪)।
আহতরা জানান, মঙ্গলবার বিকালে তারা দুই জন নিউমার্কেটে কেরাম বোর্ড কিনতে এসেছিলেন। ফেরার পথে মার্কাস মসজিদের সমানে ইজিবাইক রেখে চালক প্রসাব বাইরে যান। এ সময় একদল অজ্ঞাত ছিনতাইকারী তাদের ছুরিকাঘাত করে ম্যানিব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, সন্ধ্যা নামার পর পরই শহরের বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায় কিশোর অপরাধীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের বয়স ৭ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত। আর এসব কিশোর অপরাধীরাই সন্ধ্যার পর শহরে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ছিনতাইসহ অপরাধ মূলক কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে। পুলিশি তৎপরতা না থাকায় এ সব অপরাধের ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় প্রভাব বিস্তারের জন্য কিশোর অপরাধীরা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এ সব কাজে ব্যবহার করছে বার্মিজ চাকু। বার্মিজ চাকুর সহজ লভ্যতার কারণে অপরাধ সংগঠনে এর ব্যবহার বেড়েছে। এদিকে কিশোর অপরাধীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে কোতয়ারী থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, কিশোর অপরাধীদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যহত রেখে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।#

 

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ