শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরে ‘গডফাদার’ আটক অভিযান: কাউন্সিলর টাক মিলন ও ম্যানসেল আটক

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে ‘গডফাদার’ আটক অভিযানে কাউন্সিলর টাক মিলন ও ম্যানসেলকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের পালবাড়ি কাঁচা বাজার মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ডিবির জালে ধরা পড়েছেন পৌর ক্উান্সিলর ও বহুল সমালোচিত যশোর জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলনসহ তার ৬/৭ জন সহযোগী। এ সময় বার্মিজ চাকু ও মদসহ বেশকিছু অবৈধ অস্ত্র-সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে বলে প্রাথমিক পাওয়া তথ্যে জানা গেছে। তবে অভিযান শুরুর খবরে যশোর পৌরসভার বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ-যুবলীগসহ সরকারি দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের আলোচিত অস্ত্র-মাদক কারবারী, চাঁদাবাজ ও নানা অপরাধে জড়িতরা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে তথ্য মিলেছে স্ব স্ব এলাকার একাধিক সূত্রে।
সর্বশেষ তথ্যমতে, তাদের ডিবি অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এরআগে দুপুরের দিকে শহরের রেলস্টেশন এলাকা থেকে দ্রুত বিচার আইনের একটি মামলায় যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা মেহেবুুবুল রহমান ম্যানসেল ও তার সহযোগী অভিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা মূল্যের দুটি ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও বার্মিজ উদ্ধারের তথ্য দিয়েছি ডিবি অফিস। এরআগে মঙ্গলবার রাতে ষষ্টিতলাপাড়ার ভাড়াটে সাগরকে অস্ত্রসহ আটক করে র‌্যাব-৬ ক্যাম্পের একদল চৌকষ ফোর্স।
সরকারের আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দেয়া তথ্যমতে, গত মাস দেড়েক সময়ের মধ্যে যশোরাঞ্চলে খুনের ঘটনা ঘটেছে এক ডজন। এরবাইরে ছুরিকাঘাতে জখম, অস্ত্রের মহড়া, খুন-জখমের চেষ্টা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও পিটিয়ে হত্যাসহ নানা সন্ত্রাসী অপতৎপরতা নিয়ে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তর লেখালেখি ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপরই নড়েচড়ে বসে সরকারের আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় যশোরের বিভিন্ন ক্রাইম পয়েন্টে অভিযান। একাধিক টিম চিহ্নিতদের মূলোৎপাটনে মাঠে নেমেছে। জেলা গোয়েন্দা শাখা, পুলিশের বিশেষ শাখা ডিএসবিসহ থানা পুলিশ ইউনিটগুলো।
যশোর পৌরসভার ওয়ার্ড ওয়ারী অভিযানে ডজনখানে স্পটে চালানো হয়েছে অভিযান। এলোমেলোভাবে চলাফেরা করা অনেকের উপর লাাঠচার্জও করা হয়েছে। এমনকি কয়েকজন কাউন্সিলরের অফিসে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে বলেও তথ্য মিলেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহ্নিত সস্ত্রাসীদের আটক করে যশোরের আইনশৃংখলা আরো সুসংহত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম এন্ড অপস মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন।
চলতি বছরের দেড় মাসে যশোর শহর ও শহরতলীতে খুন হয়েছেন অনন্ত ১২ জন। ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে ৩ ডজনেরও বেশি। এছাড়া চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করায় ঘটনাগুলো আইনশৃংখলা সভায় আলোচনায় উঠে আসে। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত যশোরের বিভিন্ন স্পটে অভিযান চলেছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইনের নেতৃত্বে। যশোরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, পালবাড়ি, উপশহর, বারান্দীপড়া পাড়া, শংকরপুর, রেলস্টেশন, চাঁচড়া, খড়কী, ধর্মতলা, খয়েরতলা, ঝুমঝুমপুরসহ অনেকগুলো এলাকায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানে কয়েকজন আটক হয়েছে বলেও তথ্য মিলেছে। যশোর পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলরের অফিসেও পুলিশ অভিযান চালিয়েছে বলে শোনা গেছে।

পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত ক্রইমগুলোকে সামনে এনেছে পুলিশ। অপরাধের ধরণ ও চিহ্নিত সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন। মাদক ব্যবসায়ী খুনি, অস্ত্রধারী চাঁদাবাজসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়েছে। পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ভিত্তিক সন্ত্রাসীদের তালিকার কাজ চলছে। সন্ত্রাস বিরোধী অ্যাকশান চলমান থাকবে বলেও জানিয়েছেন জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রমতে, সম্প্রতি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কথিত বড়ভাইদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। যারপ্রেক্ষিতে চুনোপুটি থেকে শুরু করে কথিত বড়ভাইদের ডেরায় অভিযান চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। একের পর এক ধরাও পড়ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ