শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রোববার যশোরে যথাযথ মর্যাদার সহিত জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৪ পালিত হয়। এ বছর জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসসের প্রতিপাদ্য হলো “স্মার্ট লিগ্যাল এইড, স্মার্ট দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ” যশোর জেলা লিগ্যাল এইড কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসে পায়রা, বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে যশোর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাননীয় চেয়ারম্যান, জনাব শেখ নাজমুল আলম বর্ণাঢ্য র্যালি উদ্বোধন করেন এবং র‌্যালি সম্পাদন করেন।

অত্র র‌্যালিতে যশোরের সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৪ উপলক্ষে আয়েজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভায় যশোরের বিজ্ঞ বিচারকগণ, বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যগণ, বেসরকারি সংস্থা, সর্বস্তরের কর্মকর্তাগণ ও জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাফিয়া সুলতানা, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার যশোর। তিনি তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, আইনগত সহায়তা প্রাপ্তির অধিকার কোন করুনা নয়। এটা একটি সাংবিধানিক অধিকার। অসচ্ছল বিচার প্রাথীদের বাতিঘর হলো জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। তিনি আরো বলেন যশোরে জেলা লিগ্যাল এইড এর কার্যক্রমে জনগণের আস্থা বাড়ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত লিগ্যাল এইড অফিসারের মাধ্যমে জনগণকে আইনি পরামর্শ প্রদান করা হয়েছিল ৮০৫ জনকে । ২০২২ সালে আইনি পরামর্শ দেওয়া হয় ৫৪৩ জনকে। ২০২৩ সালে আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ৮২৮ জনকে। একই ভাবে এডিআর এর মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৪৯২ টি। ২০২২ সালে এডিআর এর মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৪৯২ টি। ২০২৩ সালে এডিআর এর মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৬৬৬টি।

২০২৩ সাল পর্যন্ত বিনামূলে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৪৬৯৭ জনকে। এছাড়াও যশোর জেলা লিগ্যাল এইড এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়ে থাকে। জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় দুইজন বিজ্ঞ প্যানেল আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল হক সুজা ও আইনাল হোসেনকে মাননীয় চেয়ারম্যান, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় প্রদান করেন। অত্র আলোচনা সভায় একজন সুবিধাভোগী নারী সুবর্ণা নূর তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়াও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন এনজিও প্রতিনিধি এ্যাঞ্জেলা গোমেজ, নির্বাহী পরিচালন, বাঁচতে শেখা ও তিন জন সিনিয়র আইনজীবী এ্যাডঃ শরীফ নূর মোঃ আলী রেজা, এ্যাডঃ কাজী ফরিদুল ইসলাম, এ্যাডঃ মোঃ নজরুল ইসলাম, জাহিদ হাসান টোকন, সভাপতি প্রেসক্লাব। এ্যাডঃ ইদ্রিস আলী, বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন
লিগ্যাল এইড সেবা আপমর জনসাধারণের নিকট পৌঁছে যাবে। এ্যাডঃ আবু মোর্তজা ছোট, সভাপতি জেলা আইনজীবী সমিতি, বলেন, যশোর লিগ্যাল এইড সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে আদ্যবধি অত্যান্ত দক্ষতার সহিত লিগ্যাল এইড অফিসারের সুচেষ্টায় বিনামূল্যে মামলা পরিচালনা ও আইনি সেবা প্রদান করে আসছে। জনাব ফারজানা ইয়াসমিন, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তিনি তার বক্তব্যে লিগ্যাল এইড এর ইতিহাস সম্পর্কে তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়াদ্দার বলেন, আইনি সেবা প্রদান কার্যক্রম খুবই যুগোপযোগী সেবা।
অনেক বছর আগেই বিভিন্ন দেশ এই আইনের মাধ্যমে সুবিধা পাচ্ছে। আমাদের সৌভাগ্য আমরাও এই আইনের মাধ্যমে সুবিধা ভোগ করছি। বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক আবরাউল হাছান মজুমদার বলেন, জেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে গণশুনানীর মাধ্যমে বিভিন্ন বিরোধের মিমাংসা করেন। তিনি আরো বলেন, তাদের কাছে জনগণের প্রবেশাধিকার থাকায় তারা মানুষের সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারে। তিনি জেলখানায় লিগ্যাল এইড কর্ণার ও বিজ্ঞ প্যানেল আইনজীবীদের কাজের সম্মাননা প্রদানের বিষয়ে প্রস্তাব করেন। বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ফাহমিদা জাহাঙ্গীর বলেন, ন্যয় বিচার প্রাপ্তি ও আইনি আশ্রয় লাভের অধিকার
রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার।

রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে যশোর জেলা লিগ্যাল এইড অফিস নিরলসভাবে এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে যশোরের অসহায় দরিদ্র ও বিচারপ্রাথীদের নিকট যশোর জেলা লিগ্যাল এইড অফিস আস্থার জায়গা হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল-১ জনাব গোলাম কবির বলেন, আমাদের দেশে বিচারকের তুলনায় মামলা সংখ্যা বেশি হওয়ায় এডিআর এর কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বিজ্ঞ আইনজীবীগণ। কারণ বিচার প্রাথী জনগণ প্রথমেই তাদের কাছে পৌঁছান। তিনি আরো বলেন, লিগ্যাল এইড অফিসের পর্যাপ্ত লোকবল ও যানবাহন সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে লিগ্যাল এইড অফিসার প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন। স্পেশাল জজ (জেলা জজ), স্পেশাল জজ আদালত, সামছুল হক বলেন, জাতীয়
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর প্রস্তাবনা দেখলে দেখা যাবে এই আইনটি অসহায় দুস্থ্য মানুষের জন্য প্রণীত হয়েছে কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট দেখলে দেখা যাবে যে, এই আইনটি এখন আপামর জনসাধারণের জন্য কারণ এখানে শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় না। অধিকিন্তু আইনি পরামর্শ ও মিমাংসাযোগ্য যে কোন সমস্যার সমাধান
দেওয়া হয়। জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৪ এর আলোচনা সভায় উপস্থাপনা করেন মোঃ খাইরুল ইসলাম, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, যশোর ও সুজাতা আমিন, সহকারী জজ, যশোর।
সমাপনী বক্তব্যে চেয়ারম্যান, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি ও বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, শেখ নাজমুল আলম বিজ্ঞ আইনজীবীদের বিনামূল্যে দারিদ্র ও অসহায় বিচারপ্রাথীদের সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতিদানের বিষয়টিকে সাধুবাদ জানান।
তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহাদয়ের কাছে জনগণের প্রবেশাধিকার থাকায় উনারা জনগণের আইনি সমস্যা সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ পান। এক্ষেত্রে সভাপতি ঘোষণা দেন যে, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে আগত কোন ব্যাক্তির আইনি সেবার প্রয়োজন আছে মর্মে
উনারা নিশ্চিত হলে লিগ্যাল এইড এর নির্ধারিত ফর্মে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস বরাবর প্রেরণ করলে লিগ্যাল এইড অফিস থেকে সেবার হাত বাড়ানো হবে। পরিশেষে সভাপতি জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান দিবসে র‌্যালী ও আলোচনা সভা সুষ্ঠভাবে সম্পাদনে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ