নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে যশোর শহরের অধিকাংশ সড়ক তলিয়ে গেছে। সড়কে যাতায়াত করতে পারছেন না এলাকাবাসী। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে পানি। যশোর আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ যশোরে ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর আগে রবিবার দিনে হালকা ও বিকালে ভারি বৃষ্টিপাত হয়। আজ সকাল থেকে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে সারাদিন থামছে না বৃষ্টি। এদিকে বৃষ্টির সাথে সাথে বাতাসের তিব্র বেগের কারনে জরুরী প্রয়োজনেও ছাতা নিয়েও বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না।
মুষলধারে বৃষ্টিতে গোটা যশোর শহরে হাটুপানি জমেছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সকাল থেকে এই টানা বৃষ্টির পানিতে টইটুম্বুর হয়ে যায় শহরের নীচু এলাকা,বাড়ি-ঘর,মাঠ-বাজার। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, কোর্টমোড়, প্যারিস রোড, রেলরোড, মনিহার এলাকা সহ বিভিন্ন সড়কে পানি জমে রীতিমতো চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে পথচারী, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও যানবাহনের চালকরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয় বেজপাড়ার বাসিন্দারা জানান, প্রতিবার বৃষ্টি হলেই এই দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীর। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো যায় না রাস্তায় জমে থাকা পানির কারনে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে গেছে নিস্কাসনের কোন যায়গা নেই। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, জরুরি পরিসেবাও এ পরিস্থিতিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, কারণ বৃষ্টির পানি রাস্তাকে প্রায় অচল করে দিচ্ছে। যশোর শহরের দীর্ঘদিনের এ অব্যবস্থাপনার নাম ‘ড্রেনেজ সমস্যা’। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শহরের নকশা ও পরিকল্পনায় সঠিকভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এই সমস্যা বারবার ফিরে আসছে। বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পর্যাপ্ত ও কার্যকর পথ নেই, ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

এদিকে কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন জেলার নিম্ন আয়ের মানুষ। বৃষ্টির প্রভাবে অনেকেই সারাদিন ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টি থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। অনেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বের হয়েছেন কাজের সন্ধানে। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় এবং বাইরে তেমন কেউ বের না হওয়ায় কাজ মিলছে না তাদের।
আরএন রোড়ের ব্যবসায়ী শরিফুজ্জামান জানান, বিগত কয়েক দিনের বৈারী আবহাওয়ার কারনে স্থবির হয়ে পড়েছে বেচাকেনা। দেশের সর্ববৃহৎ মটরপার্স মার্কেট আরএন রোড যশোর বিগত কয়েক দিন কোন অর্ডার হচ্ছে না। তাছাড়া অতি বৃষ্টির কারনে ব্যবসায়ীরা দোকান খুললেও কোন কাস্টমার নেই। খুবই খারাপ অবস্থা চলছে। হতশায় ভুগছে অধিকাংশ ব্যবসায়ী।
সোমবার সকালে যশোরের মনিহারে বৃষ্টিতে ভেজা কাপড়ে দাঁড়িয়ে যাত্রী খুঁজছিলেন রিকশাচালক ছমির আলী। আলাপকালে তিনি বলেন, সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। সকাল থেকে ৫০ টাকা রোজগার হয়েছে, বাকি দিনে কী যে হবে জানি না। ভাড়ায় রিকশা চালাই। যে টাকা এসেছে তার মধ্যে মালিককে কী দেবো আর নিজে কী নেব? বৃষ্টির কারণে বাইরে লোক একদম কম। দাঁড়িয়ে থেকে কোনো যাত্রী পাচ্ছি না। তাই মনিহার এলাকায় এসেছি যদি ভাড়া মারতে পারি।
কোতয়ালী থানার পাশে চা বিক্রেতা আসলাম বলেন, থেমে থেমে বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে দোকানের পলিথিন সরে পানিতে সব কিছু ভিজে যাচ্ছে। কেউ আসলেও তারা দ্রুত অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে। ঠিক মতো বসতে পারছে না। একারণে দোকানে বেচাকেনা অর্ধেকও নেই। তাছাড়া আবহাওয়া খারাপ থাকায় বাইরে মানুষের চলাচল কম। এ কারণে বিক্রিও তেমন নেই বললেই চলে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে যশোরের বিভিন্ন এলাকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে যশোরের খড়কি, টিবি ক্লিনিক এলাকা, শংকরপুর,সিটি কলেজপাড়া এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বহু পরিবার। ফলে নিদারুণ কষ্ট পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সবাই দোষারোপ করছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের উপর।
এ ব্যাপারে যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুন্ডু বলেন, বৃষ্টির আগে থেকেই শহরের সমস্ত ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। যাতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়, বৃষ্টির পানি দ্রুত বেরিয়ে যায়। কিন্তু কোন কিছুই কাজে আসছে না। শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কর্তৃপক্ষ বিকল্প চিন্তা করছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

