নিজস্ব প্রতিবেদক:জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুত্র বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে যশোরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ।
এ উপলক্ষে শনিবার বেলা ১২টায় যশোর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন।

জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন দলের জেলা সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আলী রায়হান, যুগ্ম সম্পাদক সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনির, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুস সবুর হেলাল, সদর উপজেলা সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন, সামির ইসলাম পিয়াস, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েল এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন কবীর পিয়াস।
বক্তারা বলেন, শেখ কালাম শুধু একজন ব্যক্তিত্বই ছিলেন না। শেখ কামাল একটি আদর্শিক প্রতিষ্ঠানও। তিনি দেশকে স্বাধীন করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী নরপিচাশরা তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
শেখ কামালের ক্রীড়া সেক্টরের অবদান নিয়ে বক্তারা বলেন, শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া সংগঠক। স্বাধীনতার পরে ক্রিকেট এত জনপ্রিয় ছিল না। তার হাত ধরেই তখন এটা শুরু হয়। তিনি একাধারে ক্রিকেট, বাস্কেটবল ও ফুটবল খেলতেন। শেখ কামালের হাত ধরেই আবাহনী ক্লাবের জন্ম। আবাহনীর মাধ্যমেই আধুনিক ফুটবল বাংলাদেশে সূচিত হয়েছে। তার মতো বড় মাপের ক্রীড়া সংগঠক বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত আর এসেছে বলে জানা নেই।
এ সময় যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এতে অংশ নেন। সভা পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম। পরে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এদিকে, দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। সকাল ৯টায় কালেক্টরেট চত্বরে স্থাপিত বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদারের নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, এনডিসি হিল্লোল চাকমা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফ মিয়া, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না হোরায়রা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু নাছির।
পরে কালেক্টরেট সভাকক্ষে বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জীবনী নিয়ে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, দোয়া মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার। বক্তৃতা করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, যুগ্ম সম্পাদক সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তুষার কুমার পাল এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহীদুল ইসলাম।
পরে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। সবশেষে ছিল প্রশিক্ষিত যুবদের আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা প্রদানের জন্য যুব ঋণ প্রদান ও গাছের চারা বিতরণ। বাদ জোহর কালেক্টরেট মসজিদে বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের রুহের মাগফিরাত কামনা করে কোরআন খতম ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।
দিনটিতে যশোর কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ মাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মেহেদী হাসান মিন্টুর উদ্যোগে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আবুল হোসেন খান, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট যশোর জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইনছার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল রানা, সদর উপজেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান টিটো এবং সদস্য শাহীন মাহমুদ।
অনুরূপ কর্মসূচি করেছে যশোর শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগ।
এদিন বিকেল ৫টায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সংগঠন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শহর শাখার আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান সুমন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নূরে আলম সিদ্দিকী মিলন।
আরো বক্তৃতা করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সদস্য নুর ইমাম বাবুল, প্রদীপ দাস, নজরুল ইসলাম সোহাগ ও শাহাজাদা নেওয়াজ, শেখ কামরুজ্জামান, রবিউল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, অনিক আহম্মেদসহ অন্যান্যরা। আলোচনা শেষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

