নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোরে পর্নগ্রাফি মামলায় স্বামী মামলায় মনিরুজ্জামান লাল্টু নামে এক ব্যক্তিকে দু’ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ এক রায়ে এ সাজা দেন। সাজাপ্রাপ্ত মনিরুজ্জামান সদর উপজেলার মনসেপপুর গ্রামের শামছুর রহমানের ছেলে।
জানা গেছে, ২০০৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর আসামি মনিরুজ্জামান বাঘারপাড়ার পাঠান পাইকপাড়া গ্রামের গোলাম হোসেনের মেয়ে মুসলিমা খাতুন রুমকীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর মুসলিমা জানতে পারেন তার স্বামী লাল্টু মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জন্য লাল্টু প্রায় তার স্ত্রীকে মারপিট করতো। অতিষ্ঠ হয়ে মুসলিমা তার সংসার করবেন না বলে ভয় দেখান। এ কথা বলার পর লাল্টু জোর করে তার স্ত্রীর নগ্ন ছবি মোবাইল ফোনে ভিডিও করে রাখে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই পিতার বাড়ি চলে যায় মুসলিমা। এরপর লাল্টু তার শ্বশুর বাড়ির এলাকায় গিয়ে লোকজনের সামনে আজেবাজে কথা বলে। ৫ আগস্ট লাল্টু তার শ্বশুর বাড়ি গিয়ে তার স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে ধারণ করা ছবি দেখিয়ে তিন লাখ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। ৬ আগস্ট আসামি লাল্টু তার স্ত্রীর নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। যা গ্রামের অনেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেখেন। এতে তার ও তার পরিবারের সম্মানহানি হয়। ফলে, তিনি ওই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর স্বামী লাল্টুকে আসামি করে আদালতে পর্নগ্রাফি আইনে মামলা করেন। এ মামলায় তাকে দু’ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।#

